https://www.voiceofpeople24.com/

4686

whole-country

ব্যাংক কর্মকর্তাদের অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন রিজেন্ট সাহেদ

প্রকাশিত : ২০ জুলাই ২০২৬ ১৬:৩৪

রাজধানীর মিরপুরে আবারও গ্রেপ্তার হয়েছেন রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ। সোমবার সকালে মিরপুরের ইসিবি চত্বর এলাকায় একটি ব্যাংকে গেলে চেক জালিয়াতির মামলার আসামি হিসেবে তাঁকে শনাক্ত করেন ব্যাংক কর্মকর্তারা। পরে তাঁরা বিষয়টি পুলিশকে জানালে ক্যান্টনমেন্ট থানা-পুলিশ তাঁকে আটক করে পল্লবী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান, সাহেদের বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সকাল পৌনে ১১টার দিকে ইসিবি চত্বরে অবস্থিত মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকে গেলে কর্মকর্তারা সাহেদকে শনাক্ত করেন। পরে সেখানে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ উভয় পক্ষকে ট্রাফিক পুলিশ বক্সে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এবং পল্লবী থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এরপর দুপুর ১টার দিকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে পল্লবী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের এক মাস পর, ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর প্রায় চার বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পান মোহাম্মদ সাহেদ। প্রতারণা, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অস্ত্র, জালিয়াতি ও মানিলন্ডারিংসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের হওয়া ৩৫টি মামলায় পর্যায়ক্রমে জামিন পাওয়ার পর তিনি কারাগার থেকে বের হন।

মোহাম্মদ সাহেদ সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন ২০২০ সালে করোনাভাইরাস মহামারির সময়। তাঁর মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া করোনা সনদ দেওয়া এবং চিকিৎসার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। ওই বছরের ৬ জুলাই র‌্যাব হাসপাতালটিতে অভিযান চালিয়ে জালিয়াতির প্রমাণ পায়। পরদিন হাসপাতালটি সিলগালা করা হয় এবং সাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

আত্মগোপনে যাওয়ার পর ২০২০ সালের ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকা থেকে র‌্যাব তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের তথ্যমতে, সাহেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে বিভিন্ন অভিযোগে মোট ৯৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি। সর্বশেষ চেক জালিয়াতির মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে আবারও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।