https://www.voiceofpeople24.com/

4649

whole-country

সৈয়দপুর রেলওয়েতে অব্যবস্থাপনা, নষ্টের পথে ১৫০ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি

প্রকাশিত : ১৩ জুলাই ২০২৬ ১৩:৫৮

নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য স্থাপন করা কোটি কোটি টাকার অবকাঠামো এখন ধ্বংসের পথে। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে থাকা ৮টি গভীর নলকূপ, পানির ট্যাংক, মোটর ও পাইপলাইন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এতে রেলওয়ের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ১৮৭০ সালে দেশের অন্যতম বৃহৎ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা প্রতিষ্ঠার পর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের আবাসনের জন্য ২ হাজার ৬৭০টি স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে ১৫০টি বাংলো ও ৭০০টি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট কোয়ার্টারে সুপেয় পানি সরবরাহের লক্ষ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ৮টি গভীর নলকূপ এবং ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ৮টি ওভারহেড পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছিল।

ইসলামবাগ শেরু হোটেল মোড়, চিনি মসজিদ, গোলাহাট, পুরাতন বাবুপাড়া, সাহেবপাড়া ও মিস্ত্রিপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থাপন করা এসব পানির অবকাঠামো রেলওয়ের সেতু, বিদ্যুৎ ও কার্য প্রকৌশল বিভাগের সমন্বয়ে পরিচালিত হতো। তবে চার দশক আগে সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর চালু হয়নি।

বর্তমানে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা, স্টেশন ও অন্যান্য দপ্তরে অনুমোদিত ৩ হাজার ৮৩২ জনবলের বিপরীতে কর্মরত আছেন প্রায় ৮৭০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের বড় একটি অংশ পরিবার নিয়ে রেলওয়ের আবাসিক এলাকায় বসবাস করলেও সেখানে নেই কেন্দ্রীয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ব্যবহারের বাইরে থাকা পাম্পহাউসগুলো জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। চারপাশে জন্মেছে আগাছা ও পরগাছা। অযত্নে পড়ে থাকা লোহার পানির ট্যাংকগুলোতে মরিচা ধরে ক্ষয় হয়েছে। ভূগর্ভস্থ পাইপলাইন ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশও নষ্ট হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক জায়গা থেকে মূল্যবান সরঞ্জাম চুরি হয়েছে এবং কিছু রেলভূমি অবৈধ দখলের কবলে পড়েছে।

রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় বছরের পর বছর ধরে তাদের নিজস্ব ব্যবস্থায় পানির চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে। ইসলামবাগ এলাকার এক রেলকর্মী বলেন, রান্না ও দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। বাধ্য হয়ে অনেকে ব্যক্তিগত খরচে নলকূপ স্থাপন করেছেন। অথচ বেতন থেকে নিয়মিত পানি বিল ও বাসা ভাড়া কাটা হচ্ছে।

রেলওয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকলেও বিষয়টি সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এতে কোয়ার্টারে বসবাসকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোগান্তি বাড়ছে।

রেলওয়ে শ্রমিক ইউনিয়নের কারখানা শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ রোবায়েতুর রহমান বলেন, খোলা জায়গায় ফেলে রাখায় রেলওয়ের মূল্যবান সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। রেলভূমি দখলমুক্ত করা, নষ্ট হয়ে যাওয়া অবকাঠামো সংরক্ষণ এবং আবাসিক এলাকায় পানির সংকট সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

এ বিষয়ে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) চন্দন কুমার সরকার জানান, মূলত জনবল সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে পাম্পগুলো চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।