https://www.voiceofpeople24.com/
4643
international
প্রকাশিত : ১৩ জুলাই ২০২৬ ১২:২৮
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর ইরান প্রণালিটি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিলেও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য হরমুজ এখনো সম্পূর্ণ খোলা রয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু। গত মাসে যুদ্ধবিরতির একটি সমঝোতা হলেও এই জলপথ ঘিরে উত্তেজনা কমেনি।
সাম্প্রতিক সংঘাতের সূত্রপাত হয় একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ইরানের হামলায় জাহাজটিতে আগুন ধরে যায় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে নাবিকদের জাহাজ ত্যাগ করতে হয়। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে আবারও পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক হামলার আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তেহরান বলছে, তারা এই কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেবে। বিপরীতে ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরান এমন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাতে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, নতুন নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এবং অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক্সে এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী চলাচলকারী সব জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রয়েছে। নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী প্রয়োজনীয় অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত।
সেন্টকম আরও দাবি করেছে, ইরানের হরমুজ প্রণালির ওপর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকভাবেই অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে ইরান দীর্ঘদিন ধরে কৌশলগত চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতার এক উপদেষ্টা সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘কয়েক ডজন পারমাণবিক বোমার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ’।