https://www.voiceofpeople24.com/
4471
sylhet
সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৯ জুন ২০২৬ ১৪:১২
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক সম্ভাব্য পুশইন ঠেকাতে সুনামগঞ্জসহ দেশের ২৬টি সীমান্তবর্তী জেলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ ও আনসার সদস্যদের সম্পৃক্ত করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
শনিবার রাতে সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির জানান, দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টার প্রেক্ষিতে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে সার্বক্ষণিক টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলার ছয়টি উপজেলার সঙ্গে ভারতের প্রায় ১২০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে মধ্যনগর উপজেলার ৭ কিলোমিটার অংশ নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের এবং ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ২৩ কিলোমিটার অংশ সিলেট ব্যাটালিয়নের অধীনে রয়েছে। বাকি প্রায় ৯০ কিলোমিটার সীমান্ত সুনামগঞ্জ বিজিবির ২৮ ব্যাটালিয়নের দায়িত্বে। এর মধ্যে ৮৯ কিলোমিটার স্থলসীমা এবং ১ কিলোমিটার জলসীমা রয়েছে। দুর্গম ও পাহাড়ি এই সীমান্তের কিছু অংশে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় নিরাপত্তা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, অতীতে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের পুশইনের ঘটনা ঘটলেও সুনামগঞ্জ সীমান্তে কড়া নজরদারির কারণে বড় ধরনের কোনো অনুপ্রবেশ হয়নি। তবে ২০২৫ সালে চার দফায় ছাতক উপজেলার ছনবাড়ি–নোয়াকোট সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট ৭৪ জনকে পুশইন করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে তারা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক বলে জানা যায়, যারা পূর্বে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, গত বছরও একাধিক দফায় একই সীমান্ত দিয়ে বিভিন্ন সময় ১৬ জন, ১৭ জন, ২০ জন ও ২১ জনকে পুশইন করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা ছিলেন।
বর্তমানে বিজিবির ২৮ ব্যাটালিয়নসহ অন্যান্য সীমান্ত ব্যাটালিয়নগুলোতে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দেশের ২৬টি সীমান্তবর্তী জেলাকে সম্ভাব্য পুশইন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে প্রায় ৬০ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী চিনাকান্দি বিওপিসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতভর মাইকিং, সার্চলাইট ব্যবহার এবং মেগাফোনের মাধ্যমে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। স্থানীয় গ্রামবাসী ও আনসার সদস্যদেরও টহল কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে।
বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশইন প্রতিরোধে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা দৃশ্যমানভাবে বাড়ানো হয়েছে এবং বিজিবির সতর্কতামূলক মাইকিং ও টহলে এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
উল্লেখ্য, সীমান্ত পুশইনের পাশাপাশি বিএসএফের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার অভিযোগও রয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিএসএফের হাতে ৩৪ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুলিতে ২৪ জন এবং নির্যাতনে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, সীমান্তে কোনো ধরনের অবৈধ পুশইন বা পুশব্যাক সমর্থনযোগ্য নয়। এ কারণে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে এবং সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করা হয়েছে।