https://www.voiceofpeople24.com/
4461
national
প্রকাশিত : ০৮ জুন ২০২৬ ১৫:১১
হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা এবং সময়মতো টিকা আমদানিতে ব্যর্থতার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৮ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ও বসুন্ধরা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি মজিবুর রহমান ইকবাল। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন এবং পরে তা খারিজ করে দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী আশুতোষ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযোগ গ্রহণের মতো পর্যাপ্ত উপাদান না পাওয়ায় আদালত মামলাটি খারিজ করেছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অবহেলা ও নীতিগত ব্যর্থতার কারণে দেশে হামের ব্যাপক বিস্তার ঘটে। এর ফলে শত শত শিশুর মৃত্যু এবং হাজারো শিশু ঝুঁকির মুখে পড়ে। বাদীর দাবি, এটি সাধারণ প্রশাসনিক ব্যর্থতার চেয়ে গুরুতর অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।
আরও অভিযোগ করা হয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় এবং হাম-রুবেলা টিকা আমদানির ক্ষেত্রে বিলম্ব ঘটায় শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে নাগরিকদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ সরকার ইউনিসেফের সহযোগিতায় হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন টিকা সংগ্রহ করে আসছিল। তবে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়। ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি সংগ্রহের পরিবর্তে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয় এবং টিকার সংকট তৈরি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স গত ২০ মে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সম্ভাব্য টিকা সংকট নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে একাধিকবার সতর্ক করার কথা জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি বিদ্যমান টিকা সংগ্রহ ব্যবস্থা বহাল রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, টিকার ঘাটতির কারণে বিপুলসংখ্যক শিশু নির্ধারিত সময়ে হাম-রুবেলা টিকা গ্রহণ করতে পারেনি। এর ফলে দেশে হামের সংক্রমণ ব্যাপক আকার ধারণ করে।
বাদীর দাবি, গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ হাজার ৭০৮ শিশু ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে সরকারি হিসাবে প্রায় ৬১০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন এলাকায় আরও বহু শিশু আক্রান্ত হয়েছে, যাদের একটি বড় অংশ সরকারি পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে মামলায় দাবি করা হয়। এর ফলে আক্রান্ত পরিবারের ওপর চিকিৎসা ব্যয়ের অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং রাষ্ট্রকেও বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে।
মামলায় কয়েকজন শিশুর মৃত্যুর নির্দিষ্ট উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়, টিকা সংকট ও হামের বিস্তারের সঙ্গে এসব মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অবহেলা, ভুল নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মকাণ্ডের কারণেই এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে এবং লাখো শিশুর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করেন বাদী।
তবে অভিযোগ আমলে নেওয়ার মতো যথেষ্ট ভিত্তি না পাওয়ায় আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।