https://www.voiceofpeople24.com/

4452

law-and-courts

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল ও তাঁর স্ত্রীর ফাঁসির রায়

প্রকাশিত : ০৭ জুন ২০২৬ ১২:২১

পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় ঘোষণা শুরু করেন এবং ১১টা ৩৫ মিনিটে রায় পড়া শেষ করেন।

রায়ে বলা হয়েছে, আসামিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। তবে দণ্ড কার্যকরের আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী হাইকোর্টের অনুমোদন নিতে হবে। ট্রাইব্যুনাল মামলার নথি দ্রুত হাইকোর্টে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। রায়ে আরও বলা হয়েছে, আসামিরা ইচ্ছা করলে এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করতে পারবেন।

আদালত বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা এবং লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সাক্ষ্যপ্রমাণে শিশুকে হত্যার নির্মমতা, বীভৎসতা ও নিষ্ঠুরতার প্রমাণ মিলেছে। এ ধরনের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন হওয়ায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। রায় শেষে সাজা পরোয়ানাসহ তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।গত বৃহস্পতিবার মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল রোববার রায়ের তারিখ ধার্য করেন। সেদিন রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে আসামিদের মৃত্যুদণ্ড দাবি করে। আসামিপক্ষের আইনজীবী অপেক্ষাকৃত কম শাস্তির আবেদন করেন।

শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে ১ জুন অভিযোগ গঠন করা হয়। আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হওয়ার পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। মামলাটি দায়েরের চার দিনের মাথায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। গত মঙ্গলবার এক দিনে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়।

গত ২৪ মে বিকেলে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। একই দিন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান। একই দিন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।