https://www.voiceofpeople24.com/

4631

international

১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত, আমাকে হত্যার চেষ্টা করলে ইরানকে ‘ধ্বংস’ করব: ট্রাম্প

প্রকাশিত : ১১ জুলাই ২০২৬ ১২:৩৩

ইরান হত্যাচেষ্টা চালালে ‘ব্যাপক হামলা’ হবে, দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যদি তাঁর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড বা হত্যাচেষ্টার মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ব্যাপক সামরিক হামলা চালাবে। এ বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (স্থানীয় সময়) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি লেখেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে হামলা চালানো হবে।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের দিকে ১,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে যদি ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট—এই ক্ষেত্রে আমাকে—হত্যা বা হত্যার চেষ্টা বাস্তবায়ন করে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানবে।’

তিনি আরও দাবি করেন, এ বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে আগেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, আগামী এক বছর বা প্রয়োজন হলে আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য বাহিনী প্রস্তুত থাকবে এবং প্রয়োজন হলে ইরানের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম।

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইরানের সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির বিভিন্ন প্রতিবেদনের মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এসেছে। বিশেষ করে ২০২০ সালে ইরাকের বাগদাদে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা কাসেম সোলেইমানি নিহত হওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকেই প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছে ইরান।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও অতীতে ট্রাম্পসহ শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ইরানি হুমকির বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিল। এ কারণে সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই পোস্টে উত্থাপিত দাবি কিংবা সম্ভাব্য সামরিক নির্দেশনার বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। একইভাবে ট্রাম্পের বক্তব্যের বিষয়ে ইরান সরকারও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং দুই দেশের সম্ভাব্য কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের এই কঠোর বার্তা ইরানের ওপর রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপ তৈরির অংশ হতে পারে।