https://www.voiceofpeople24.com/
4648
religious-news
প্রকাশিত : ১৩ জুলাই ২০২৬ ১৩:৪৯
বৃষ্টি মহান আল্লাহ তাআলার অন্যতম বড় নিয়ামত। বৃষ্টির মাধ্যমে পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চার হয়, ফসল উৎপাদন হয় এবং মানুষের জীবনধারণ সহজ হয়। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে অনেক সময় বন্যা, পাহাড়ধস, ভূমিধস ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। তাই অতি বৃষ্টির সময় আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য দোয়া করা উচিত।
হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার জুমার দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.) খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় এক সাহাবি মসজিদে এসে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, অনাবৃষ্টির কারণে জীবজন্তু মারা যাচ্ছে এবং চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আপনি আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য বৃষ্টির দোয়া করুন।’
তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই হাত তুলে দোয়া করলেন—
‘আল্লাহুম্মাসকিনা, আল্লাহুম্মাসকিনা, আল্লাহুম্মাসকিনা।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমাদের বৃষ্টি দান করুন। হে আল্লাহ, আমাদের বৃষ্টি দান করুন। হে আল্লাহ, আমাদের বৃষ্টি দান করুন।’
হজরত আনাস (রা.) বলেন, আল্লাহর কসম! তখন আকাশে কোনো মেঘ ছিল না। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দোয়ার পরই আকাশে মেঘ জমতে শুরু করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রবল বৃষ্টি নেমে আসে।
তিনি আরও বলেন, টানা ছয় দিন পর্যন্ত সূর্যের দেখা পাওয়া যায়নি। পরবর্তী জুমার দিনে সেই একই ব্যক্তি আবার মসজিদে এসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল, অতিবৃষ্টির কারণে সম্পদ নষ্ট হচ্ছে এবং চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। আপনি আল্লাহর কাছে বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার জন্য দোয়া করুন।’
তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) আবার দুই হাত তুলে দোয়া করলেন—
‘আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা; আল্লাহুম্মা আলাল আ-কামি ওয়াজ জিরাবি, ওয়া বুতুনিল আওদিয়াতি, ওয়া মানাবিতিশ শাজার।’
অর্থ: ‘হে আল্লাহ, আমাদের আশপাশে বৃষ্টি দিন, আমাদের ওপর নয়। হে আল্লাহ, পাহাড়-টিলা, উপত্যকা, খাল-নালা এবং গাছপালা জন্মানোর স্থানে বৃষ্টি দিন।’
হজরত আনাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দোয়ার পরই বৃষ্টি থেমে যায় এবং মানুষ নামাজ শেষে রোদের মধ্যে বাইরে বের হয়।
(সহিহ বুখারি: ১০১৩)
এই হাদিস থেকে শিক্ষা পাওয়া যায়, বৃষ্টি যেমন আল্লাহর রহমত, তেমনি অতিরিক্ত বৃষ্টির সময়ও তাঁর কাছেই সাহায্য ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করা মুমিনের দায়িত্ব।