https://www.voiceofpeople24.com/
4647
national
প্রকাশিত : ১৩ জুলাই ২০২৬ ১৩:৪১
অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্টের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে গ্রাহক ও সাব-এজেন্টদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে বিমানের টিকিট সরবরাহ না করার অভিযোগ রয়েছে।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে গত ১১ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি করা হয়। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির সাতজন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফ্লাইট এক্সপার্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম, প্রেসিডেন্ট এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, পরিচালক আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম, এ কে এম শাহদাত হোসেন, আব্দুল গণি মেহেদী, হেড অব ফাইন্যান্স মো. সাকীব হোসেন এবং সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেসের স্বত্বাধিকারী মোতাহের হোসেন।
সিআইডি জানায়, ২০১৬ সালে অনলাইনে বিমান টিকিট বিক্রির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ফ্লাইট এক্সপার্ট। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি হোটেল বুকিং, হজ ও ওমরাহ প্যাকেজসহ বিভিন্ন ট্রাভেল সেবা চালু করে। ২০১৯ সালে FEBD নামে যৌথ মূলধনী কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হলেও ফ্লাইট এক্সপার্ট ও FEBD—দুই নামেই ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং ব্যাংক লেনদেন পরিচালনা করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সময় আকর্ষণীয় ছাড়ের প্রচারণা চালিয়ে দেশজুড়ে সাব-এজেন্ট ও সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করে। তবে নির্ধারিত সময়ে টিকিট সরবরাহ না করেই প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম গত বছরের ১ আগস্ট দেশ ছেড়ে চলে যান বলে জানিয়েছে সিআইডি।
সিআইডির অভিযোগ, FEBD-এর বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া অর্থ পরে ফ্লাইট এক্সপার্টের অন্যান্য হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, উত্তোলন ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস ও মালিকানা গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশত্যাগের পরও প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন পরিচালক ও অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করেন। এসব লেনদেনের মাধ্যমে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
এ ছাড়া আইএটিএ অনুমোদিত বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সির কাছ থেকে টিকিট সংগ্রহ করেও অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের টাকা নেওয়ার পর টিকিট দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে একই টিকিটের বিপরীতে একাধিকবার অর্থ নেওয়ার ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা আত্মসাৎ এবং পরবর্তী সময়ে ব্যাংকিং চ্যানেলে ওই অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।