https://www.voiceofpeople24.com/
4652
economy
অর্থনীতি
প্রকাশিত : ১৩ জুলাই ২০২৬ ১৪:৫৫
ক্যাশলেস অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগের মধ্যেই উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে দেশের অর্থনীতিতে। ব্যাংকের পরিবর্তে নিজেদের কাছে নগদ টাকা ধরে রাখার প্রবণতা বাড়ছে মানুষের মধ্যে। ফলে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। একই সময়ে ব্যাংক আমানতের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক ধীর হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা।
তাঁদের মতে, মূল্যস্ফীতির চাপ, ব্যাংকিং খাতে আস্থার ঘাটতি, কয়েকটি ব্যাংকের আর্থিক দুর্বলতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে মানুষ হাতে নগদ টাকা রাখাকে বেশি নিরাপদ মনে করছে। এই প্রবণতা দীর্ঘদিন চললে ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাস শেষে ব্যাংকের বাইরে মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। এর আগের মাস এপ্রিলে এই পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৯৯ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মানুষের হাতে থাকা নগদ অর্থ বেড়েছে ৪৯ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকা, যা প্রায় ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বৃদ্ধি।
গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থ বেড়েছে ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ। গত বছরের মে মাসে এ পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে একই সময়ে ব্যাংক আমানতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, মানুষের হাতে নগদ অর্থ বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো ব্যাংকের প্রতি আস্থার সংকট। অনেক গ্রাহক এখন ব্যাংকে টাকা রাখার বিষয়ে আগের মতো স্বস্তি অনুভব করছেন না। দুর্বল ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা অর্থের একটি অংশ আর ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরছে না।
তিনি আরও বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় বেড়েছে। খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে বেশি নগদ অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে। পাশাপাশি অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে অনেকেই হাতে টাকা রাখাকে নিরাপদ মনে করছেন।
ব্যাংকারদের মতে, কয়েকটি দুর্বল ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এখনো রয়েছে। উত্তোলিত অর্থের কিছু অংশ অন্য ব্যাংকে জমা হলেও বড় একটি অংশ মানুষের হাতে নগদ হিসেবে থেকে যাচ্ছে।
সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শওকত আলী খান জানান, তাঁদের ব্যাংকে আমানতের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তবে কিছু ব্যাংকের দুর্বলতার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মে মাস শেষে ব্যাংক খাতে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৪১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে আমানত বেড়েছে ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েকটি ব্যাংকের আর্থিক সংকট প্রকাশ্যে আসার পর গ্রাহকদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে কিছু ব্যাংক থেকে ব্যাপক হারে অর্থ উত্তোলনের চাপ তৈরি হয়। পরে কয়েকটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করে সরকারি মালিকানাধীন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংকেও তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা তুলে হাতে নগদ রাখা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়। এতে ব্যাংকের তারল্য ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হতে পারে এবং বাজারে নগদ অর্থের প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।