https://www.voiceofpeople24.com/
4485
economy
প্রকাশিত : ১১ জুন ২০২৬ ১৩:৫৫
সীমিত সম্পদের মধ্যেও দেশের সব মানুষের জন্য স্বস্তি নিশ্চিত করতেই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় সংসদে প্রবেশের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেটকে ঘিরে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল যাতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভঙ্গুর অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে সরকার।
আজ বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। নতুন সরকারের এটি প্রথম বাজেট। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে বাড়তি ব্যয় এবং ঋণের সুদ পরিশোধের চাপের মধ্যেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও প্রস্তাবিত বাজেটে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকছে। একই সঙ্গে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়েই এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরের জন্য উচ্চাভিলাষী এই বাজেট উপস্থাপন করা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ। যদিও গত তিন বছর ধরে প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের আশপাশে রয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।
এই বিশাল বাজেট বাস্তবায়নে আগামী অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং বাকি ৯১ হাজার কোটি টাকা আসবে এনবিআর-বহির্ভূত বিভিন্ন উৎস থেকে।
রাজস্ব আয়ের বাইরে বাজেট ঘাটতি পূরণে দেশি-বিদেশি উৎস থেকে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এছাড়া আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেটের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার দাঁড়াচ্ছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি মানুষের স্বস্তি, কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধিকে সামনে রেখেই এবারের বাজেট সাজানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার।