https://www.voiceofpeople24.com/

4865

economy

ফ্লাইট বাড়ছে বাংলাদেশ-সৌদি রুটে

প্রকাশিত : ১৩ আগস্ট ২০২৬ ১৭:৪০

ঢাকা: বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিমান যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন সমঝোতার আওতায় দুই দেশের মনোনীত এয়ারলাইনগুলো সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৮৪টি যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। আগে এই সংখ্যা ছিল ৪৯টি। ফলে সপ্তাহে অতিরিক্ত ৩৫টি যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

তিনি বলেন, নতুন সমঝোতার ফলে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা পূরণে এয়ারলাইনগুলো আরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারবে। এতে হজ ও ওমরাহযাত্রীদের পাশাপাশি সৌদি আরবে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসীও উপকৃত হবেন।

বিশেষ করে হজ মৌসুমে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ ও আসন সংকট মোকাবিলায় বাড়তি ফ্লাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে বেবিচক। একই সঙ্গে এয়ারলাইনগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়লে যাত্রীদের তুলনামূলক কম ভাড়ায় ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ঢাকা ছাড়িয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকেও বাড়বে সংযোগ

নতুন সমঝোতায় শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক বিমান যোগাযোগ নয়, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর থেকেও সৌদি আরবের বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে।

এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যাত্রীদের জন্য রিয়াদ, দাম্মাম, মদিনা ও জেদ্দার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সপ্তাহে ২১টি কার্গো ফ্লাইট

যাত্রীবাহী ফ্লাইটের পাশাপাশি কার্গো পরিবহনেও নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২১টি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করা যাবে।

এতে তৈরি পোশাক, কৃষিপণ্য, তাজা শাকসবজি ও ফলমূলসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন রপ্তানি পণ্য দ্রুত সৌদি আরবের বাজারে পাঠানোর সক্ষমতা বাড়বে।

এ ছাড়া নতুন সমঝোতায় পঞ্চম স্বাধীনতা ট্রাফিক অধিকারও রাখা হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশের মনোনীত এয়ারলাইনগুলো সৌদি আরবকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে স্পেন, জার্মানিসহ নির্ধারিত তৃতীয় গন্তব্যে কার্গো পরিবহন করতে পারবে।

ফলে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক এয়ার কার্গো নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি দেশকে আঞ্চলিক কার্গো সংযোগকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

কোড-শেয়ারিংয়ে বাড়বে আন্তর্জাতিক সংযোগ

সমঝোতায় কোড-শেয়ারিংয়ের সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে দুই দেশের মনোনীত এয়ারলাইনগুলো নিজেদের মধ্যে এবং তৃতীয় দেশের এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে কোড-শেয়ার চুক্তি করতে পারবে।

এর ফলে যাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক গন্তব্যে আরও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ও সহজতর সংযোগ সুবিধা তৈরি হবে।

পাশাপাশি কো-টার্মিনালাইজেশনের আওতায় একই ফ্লাইটের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের একাধিক গন্তব্যে সেবা পরিচালনার সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া লিজ নেওয়া উড়োজাহাজ, বিশেষ করে ওয়েট লিজ ব্যবহারের সুযোগ থাকায় ব্যস্ত মৌসুমে এয়ারলাইনগুলো দ্রুত ফ্লাইট সক্ষমতা বাড়াতে পারবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, নতুন সমঝোতা শুধু ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা, প্রবাসীদের যাতায়াত, কার্গো পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দুই দেশের এয়ারলাইনগুলোর সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এই সমঝোতা দুই দেশের বিমান চলাচল খাতকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক এভিয়েশন ও কার্গো হাব হিসেবে গড়ে তুলতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।