https://www.voiceofpeople24.com/
4708
international
প্রকাশিত : ২৪ জুলাই ২০২৬ ১১:৩২
ভারতে প্রশ্নফাঁসের পুনরাবৃত্তি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যে প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, "যুবসমাজের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নয়। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।"
তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যারা দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।"
তবে তাঁর বক্তব্যে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি কিংবা আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের অভিযানের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
প্রশ্নফাঁস নিয়ে মোদির এমন বক্তব্য নতুন নয়। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সময় সংসদ, নির্বাচনী সমাবেশ ও জনসভায় তিনি একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে লোকসভা ও রাজ্যসভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা খেলেছে, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সে সময় নিট (NEET) ও ইউজিসি-নেট (UGC-NET) পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছিল।
একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি বলেন, প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৩ সালের রাজস্থান বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণায় মোদি কংগ্রেসকে প্রশ্নফাঁসের জন্য দায়ী করে "প্রশ্নফাঁস মাফিয়া" নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও রাজস্থানে এক সমাবেশে তিনি দাবি করেন, বিজেপি সরকার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে এবং অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চলমান আন্দোলনের মধ্যে মোদির নতুন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে, অতীতেও একই ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও প্রশ্নফাঁসের ঘটনা কেন বন্ধ হয়নি। তাদের দাবি, বারবার আশ্বাসের পরিবর্তে কার্যকর বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।