https://www.voiceofpeople24.com/
4667
national
জাতীয়
প্রকাশিত : ১৬ জুলাই ২০২৬ ১০:৩৮
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা কমিটির কাজ প্রায় শেষ, আর দুই-তিনটি বৈঠকের মধ্যেই চূড়ান্ত সুপারিশ প্রস্তুত হবে। এরপর মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিললে আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহেই নতুন বেতনকাঠামোর গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বুধবার (১৬ জুলাই) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে পর্যালোচনা কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে কমিশনের সুপারিশের বিভিন্ন দিক এবং আগের বেতনকাঠামোর সীমাবদ্ধতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে উপস্থিত পর্যালোচনা কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সুপারিশ চূড়ান্ত করতে আরও দুই থেকে তিনটি বৈঠক প্রয়োজন হবে। প্রতিটি বৈঠকে খুঁটিনাটি বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে, যাতে নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কোনো ধরনের অসন্তোষ না থাকে।
তার ভাষ্য, অষ্টম বেতনকাঠামোতে থাকা বিভিন্ন ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার অধিক সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে কমিটি।
কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতন এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বিভিন্ন ভাতা কার্যকরের বিষয়ে সদস্যরা নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন। তবে মূল বেতন ও ভাতা একসঙ্গে নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার ওপর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া নতুন বেতনকাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। সব গ্রেডে সমান হারে বেতন না বাড়িয়ে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি সুবিধা দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন কমিটির অধিকাংশ সদস্য।
পাশাপাশি বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাসের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।
কমিটির সদস্যদের মতে, ২০১৫ সালে অষ্টম বেতনকাঠামো ঘোষণার পর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলন এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতনসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছিল। পরে এসব বিষয় আলাদা মন্ত্রিসভা কমিটির মাধ্যমে সমাধান করতে হয়।
এবার সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এমন কোনো ত্রুটি না রাখার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দিলেও সরকার পরিবর্তনের কারণে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তমান সরকারের ওপর আসে।
এরপর গত ৮ ফেব্রুয়ারি কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
পর্যালোচনা কমিটির এক সদস্য জানান, অষ্টম বেতনকাঠামোর গেজেট প্রকাশে কমিশন গঠনের পর দুই বছরের বেশি সময় লেগেছিল। সেই তুলনায় এবার মাত্র প্রায় এক বছরের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে একই বেতনকাঠামোয় থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন নতুন পে স্কেল না হওয়ায় অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন গ্রেডের সর্বোচ্চ ধাপে পৌঁছে গেছেন এবং তাদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে গেছে।
এ কারণে নতুন বেতনকাঠামোয় বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের ধাপ বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী বিভিন্ন ভাতা কার্যকরে একাধিক এসআরও (স্ট্যাটিউটরি রেগুলেটরি অর্ডার) জারি করতে হবে। সে জন্য ইতোমধ্যে এসআরওর খসড়া প্রস্তুতের কাজ চলছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রয়োজনীয় সংশোধন করে দ্রুত তা জারি করা হবে।
আন্তমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নতুন বেতনকাঠামোর গেজেটের জন্য সরকারি চাকরিজীবীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। তার মতে, বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার দ্রুত নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণা করবে বলে প্রত্যাশা সবার।
আগস্টের প্রথম সপ্তাহে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য পূরণ করতে হলে এর আগে পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত করে মন্ত্রিসভার অনুমোদন নিতে হবে। এরপর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হবে। কর্মকর্তাদের আশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।