https://www.voiceofpeople24.com/

4864

politics

সচিবালয়ে বিএনপির বৈঠক নিয়ে জামায়াত নেতার প্রশ্ন

প্রকাশিত : ১৩ আগস্ট ২০২৬ ১৭:১৩

ঢাকা: রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সচিবালয়ে বিএনপির বৈঠকের সমালোচনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেছেন, সচিবালয় একটি নির্বাহী প্রতিষ্ঠান; সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক করার নজির তাঁর জানা নেই।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

আযাদ বলেন, সচিবালয়ের মতো নির্বাহী জায়গায় রাজনৈতিক দলের শীর্ষ ফোরামের বৈঠক অতীতে হয়েছে—এমন কোনো নজির তাঁর জানা নেই। বিএনপির এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা গণতন্ত্রকে কীভাবে দেখছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিএনপির মহাসচিব সরকারের গত পাঁচ-ছয় মাসের কার্যক্রমে অতীতের তুলনায় কোনো পরিবর্তন নেই বলে মন্তব্য করেছেন। এ বক্তব্যের সঙ্গে সচিবালয়ে দলের বৈঠকের বিষয়টিও মিলিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে ১১ দলের অবস্থান

১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান এবং সমর্থক হয়েছেন এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন। মনোনয়নপত্রটি বৈধ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন আযাদ।

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সিদ্ধান্তকে গণতন্ত্র চর্চার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

আযাদ বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয়ই তাঁদের মূল লক্ষ্য নয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন না হওয়াই তাঁদের উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র চর্চায় নতুন ধারা তৈরি এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

‘৭০ অনুচ্ছেদই বড় বাধা’

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন আযাদ।

তাঁর দাবি, বিএনপি চাইলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোটের ব্যবস্থা করতে পারত। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আযাদ বলেন, গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে রায় পাওয়ার পরও ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন না করায় সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। এই সংস্কার বাস্তবায়িত হলে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল অলি আহমেদ সংসদ সদস্যদের ভোটে ভালো ফল করতে পারতেন বলেও দাবি করেন তিনি।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে আযাদ বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বহাল থাকা অবস্থায় সংসদ সদস্যদের সেই বিধান অনুযায়ীই ভোট দিতে হবে।

অলি আহমেদের প্রশংসা

১১ দলীয় জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদকে একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর রাজনৈতিক ও জাতীয় ভূমিকার প্রশংসা করেন আযাদ।

তিনি বলেন, অলি আহমেদ দীর্ঘদিন দেশের জন্য কাজ করেছেন এবং একসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে নিজস্ব রাজনৈতিক দল গঠন করলেও বর্তমানে ১১ দলীয় জোটের সঙ্গে রাজনীতি করছেন। তাঁর মতে, এমন একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছে জনগণ।

নির্বাচন কমিশন নিয়েও অভিযোগ

এদিকে নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে সামসুল আলমের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। তাঁর অভিযোগ, সামসুল আলম আগে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন।

এ কারণে নির্বাচন কমিশনকে বিএনপি দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ করেন তিনি।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্য ও নেতারা উপস্থিত ছিলেন।