https://www.voiceofpeople24.com/

4682

economy

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের কড়া পদক্ষেপ, ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

প্রকাশিত : ২০ জুলাই ২০২৬ ১১:১৫

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। ইরানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে সর্বশেষ দফার হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ পুনর্বহাল হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯০ দশমিক ৭৮ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দামও প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৮৪ দশমিক ৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে ওই নৌপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করলে কিছু জাহাজ বিকল্প হিসেবে ওমান উপকূলঘেঁষা রুট ব্যবহার শুরু করে। তবে তেহরান জানিয়েছে, ওই পথ তাদের অনুমোদিত নয়।

সংঘাতের প্রভাব পড়েছে জ্বালানির খুচরা বাজারেও। যুক্তরাষ্ট্রের অটোমোবাইল সংস্থা এএএর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় মূল্য এখনো প্রতি গ্যালনে ৪ ডলারের সামান্য নিচে থাকলেও তা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি। বর্তমানে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের গড় দাম ৩ দশমিক ৯৯২ ডলার।

এদিকে উত্তেজনার কারণে শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। ডাও জোন্স, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং নাসডাক—তিনটি প্রধান সূচকের ফিউচারই প্রায় শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, নবম দফার সামরিক অভিযানে ইরানের উপকূলীয় সামরিক নজরদারি ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা অবকাঠামো, সামরিক কমান্ড সেন্টার, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্কে হামলা চালানো হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই পর্যায়ের অভিযান শেষ হয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখে ফেরার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, অঞ্চলে মার্কিন সেনাসদস্যদের নিহত হওয়ার জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘আমাদের সাহসী সেনারা যাতে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই লড়াই করেছে। আজ রাতেও আমরা তাদের ওপর অত্যন্ত কঠোর আঘাত হেনেছি।’

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের বক্তব্য, জুনের মাঝামাঝি হওয়া একটি কাঠামোগত চুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালির প্রশাসনিক দায়িত্ব তাদের হাতেই ছিল। যদিও নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে সেই চুক্তি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।