https://www.voiceofpeople24.com/
4694
economy
প্রকাশিত : ২২ জুলাই ২০২৬ ১২:০৪
নতুন অর্থবছরের শুরুতেই বড় পরিসরে উন্নয়ন ব্যয়ে এগোচ্ছে সরকার। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) প্রথম সভায় মোট ১৪ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা ব্যয়ের ৯টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫টি নতুন এবং ৪টি সংশোধিত প্রকল্প। সবচেয়ে বেশি ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে।
বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের এ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন (জিওবি) থেকে ব্যয় হবে ১১ হাজার ১৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে আসবে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। একটি প্রকল্পে সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন কমে যাওয়ায় মোট ব্যয়ে ৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা সমন্বয় করা হয়েছে।
পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার জানান, বর্তমান সরকারের ষষ্ঠ একনেক সভায় নতুন ও সংশোধিত মিলিয়ে মোট ৯টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।
সংশোধিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প। দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে প্রকল্পটির ব্যয় ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৭ হাজার ৪৬ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ব্যয় বাড়ছে প্রায় ৯ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন বাড়বে ৫ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ বাড়বে ৩ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। একই সঙ্গে প্রকল্পটির মেয়াদ ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
নতুন প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকায় মেঘনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প। ৬৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার এ প্রকল্পটি সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে এবং ২০২৬ সালের মার্চ থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত এর কাজ চলবে।
এছাড়া বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৯২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। একই সঙ্গে পল্লি সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্পে প্রস্তাব করা হয়েছে ২ হাজার ৮২ কোটি ১২ লাখ টাকা। দুটি প্রকল্পই সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।
জ্বালানি খাতে বাপেক্সের বেগমগঞ্জ-৫ মূল্যায়ন কূপ এবং বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২ অনুসন্ধান কূপ খনন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৫৮৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং পেট্রোবাংলার নিজস্ব অর্থায়ন ১৪৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
অন্য সংশোধিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে জিএসআইডিপি-২, যেখানে ব্যয় ৩৬৮ কোটি টাকা বাড়িয়ে মোট ১ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পে আরও ১ হাজার ২৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা যোগ করে মোট ব্যয় প্রায় ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কিডনি ডায়ালাইসিস কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে নতুন ডায়ালাইসিস কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পে ব্যয় ৮১ কোটি ৩১ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৩৭৫ কোটি ৪৭ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্যদিকে সিলেট বিভাগের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় ১১৭ কোটি ৪১ লাখ টাকা কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। সংশোধনের পর প্রকল্পটির মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৭২৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুমোদন মিললে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন দ্রুত শুরু হবে। নতুন অর্থবছরের প্রথম একনেকে যোগাযোগ অবকাঠামো, স্থানীয় সরকার, জ্বালানি, স্বাস্থ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং নদীভাঙন প্রতিরোধ খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।