https://www.voiceofpeople24.com/

4786

politics

রাজনীতি

জনভোগান্তি উপেক্ষা করে সরকার সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত: পরওয়ার

প্রকাশিত : ০৪ আগস্ট ২০২৬ ১১:০৩

দ্রব্যমূল্য, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পরিবর্তে সরকার সংবিধান ইস্যু নিয়েই বেশি ব্যস্ত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সোমবার রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার জনগণের নিত্যদিনের সংকট সমাধানের বদলে সংবিধান ও জুলাই সনদ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলকে দমনে নতুন নতুন বয়ান তৈরিতে সরকারের আগ্রহ থাকলেও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস সংকট নিরসন কিংবা বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, দেশে প্রতিদিন প্রায় ১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। এর ফলে আবাসিক গ্রাহকেরা নিয়মিত গ্যাস পাচ্ছেন না এবং শিল্পকারখানাও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য, এলএনজি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে গ্যাসের দাম বাড়লেও সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না।

পরওয়ার আরও অভিযোগ করেন, তিতাস, বিবিয়ানা, হবিগঞ্জ ও রশিদপুরসহ দেশের প্রধান গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমলেও নতুন গ্যাস অনুসন্ধানে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের যান্ত্রিক ত্রুটি দ্রুত মেরামত এবং দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে একটি জাতীয় গ্যাস ও জ্বালানি নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দলীয় বিবেচনার পরিবর্তে অভিজ্ঞ ও দক্ষ বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগাতে হবে। তাঁর মতে, যোগ্যতার পরিবর্তে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দিলে দেশের জ্বালানি সংকট দূর করা সম্ভব নয়।

বিদ্যুৎ খাত নিয়েও সমালোচনা করেন জামায়াতের এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্যুতের দাম একাধিকবার বাড়ানো হয়েছে এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে নিয়মিত ডিমান্ড চার্জ আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি জুন মাসে অনুমানভিত্তিক কম বিল করে পরের মাসে অতিরিক্ত বিল চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

পরওয়ারের দাবি, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিতরণ কোম্পানিগুলোকে ভর্তুকি দিলেও শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের কাছ থেকেই বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কাঁচা মরিচ, মোটা ও মিনিকেট চাল, মসুর ডাল, চিনি এবং রসুনের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এ অবস্থায় সরকারের কার্যকর বাজার তদারকির অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।