https://www.voiceofpeople24.com/

4759

whole-country

হাওরের পানিতে ডুবেছে স্কুলের পথ, নৌকায় ভরসা করে ক্লাসে যাচ্ছে শিশুরা

প্রকাশিত : ০১ আগস্ট ২০২৬ ১২:৩০

বর্ষার পানিতে থইথই করছে চারপাশ। বিদ্যালয় ভবনটি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকলেও সেখানে পৌঁছানোর সব পথ এখন পানির নিচে। তাই সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের শত শত কোমলমতি শিক্ষার্থী প্রতিদিন নৌকা বেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি শাল্লা উপজেলার বাহাড়া ইউনিয়নের ভেড়া ডহর হাওর এলাকায় অবস্থিত মির্জাকান্দা নতুন হাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। বিদ্যালয়ের চারপাশের সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের একমাত্র ভরসা এখন ছোট নৌকা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জে মোট ১ হাজার ৪৭৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এর উল্লেখযোগ্য অংশ জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ঝড়-বৃষ্টি ও উত্তাল পানির মধ্যেও অভিভাবকেরা সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকতে পারছে না।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভেড়া ডহর হাওরের মধ্যে ছোট ছোট কয়েকটি পাড়া নিয়ে গড়ে উঠেছে মির্জাপুর গ্রাম। সেখানে পাশাপাশি রয়েছে মির্জাকান্দা নতুন হাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং মির্জাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুটি বিদ্যালয়ে যথাক্রমে ৭৬ ও ৯৪ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরের এই গ্রামের অধিকাংশ পরিবারই নিম্ন আয়ের। শিক্ষার্থীদের প্রায় সবাই নৌকায় করে বিদ্যালয়ে আসে-যায়। আবহাওয়া খারাপ হলে উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুর রহমানের তিন সন্তান। তাদের মধ্যে ছোট ছেলে আইজুল প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে প্রায় ৩০০ ফুট রাস্তা বর্ষায় পানিতে তলিয়ে যায়। তাই ওই রাস্তায় মাটি ফেলা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নৌকার ব্যবস্থা করা হলে যাতায়াত অনেক সহজ হবে।

মির্জাকান্দা নতুন হাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক চমক কান্তি তালুকদার জানান, বর্ষা এলেই বিদ্যালয়টি প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। চারদিকে শুধু পানি থাকায় শিক্ষার্থীরা নৌকায় করেই আসে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে অনেকেই আর বিদ্যালয়ে আসতে পারে না।

একই ধরনের দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায় তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরের তীরবর্তী লামাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। সেখানে ১৪২ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার বলেন, বর্ষাকালে ঝড়-বৃষ্টি হলে উপস্থিতির হার অনেক কমে যায়।

বিদ্যালয়টির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. আরিফ ও ইসরাত জাহান নোহা জানায়, প্রতিদিন নৌকায় যাতায়াতের পাশাপাশি সাঁকো পার হতে হয়। অনেক শিক্ষার্থীর নিজস্ব নৌকা নেই। বৃষ্টি হলে বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যায়। এরপর ভেজা কাপড়েই ক্লাস করতে হয়।

এমন পরিস্থিতি শুধু শাল্লা বা তাহিরপুরেই নয়। মধ্যনগর, জামালগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন হাওরাঞ্চলের বহু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বর্ষাকালে জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস জানান, হাওর এলাকার বিদ্যালয়গুলোর সমস্যার বিষয়টি সরকারকে অবহিত করা হয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে।