https://www.voiceofpeople24.com/

4976

international

নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধস, মৃত ৭৫০ ছাড়াল; নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট ২০২৬ ১২:৪২

নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে নেপালে ৭৩৪ জন এবং তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই দেশে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৪৪ জন। রোববার (৩০ আগস্ট) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যের বরাতে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স ও কাঠমান্ডু পোস্ট।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৭৩৪টি মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৯৮ জন।

সবচেয়ে বেশি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ানে—২৫৯টি। এরপর নাওয়ালপরাসি ইস্টে ১৮৪টি, নাওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ৮২টি, গোরখায় ৫৮টি, নুয়াকোটে ৫২টি, ধাদিংয়ে ৫০টি, তানাহুনে ৩৬টি এবং রাসুয়ায় ১৩টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

বন্যার স্রোতে মানুষ ও ধ্বংসাবশেষ ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে বহুদূর ভাটিতে চলে যাওয়ায় অনেক মরদেহও দুর্ঘটনাস্থল থেকে কয়েক শ কিলোমিটার দূরে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি রাসুয়া জেলায়—৫৬২ জন। নুয়াকোটে ১১৫ এবং মাকওয়ানপুরে ৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নিখোঁজদের তালিকায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯৩৩ জন, ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক এবং তাঁদের সঙ্গে ভ্রমণরত ১২৭ জন নেপালি রয়েছেন। এ ছাড়া ৮৫ জন নিরাপত্তাকর্মীও নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে নেপালি সেনাবাহিনীর ৪৫ জন, নেপাল পুলিশের ২৭ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১৩ জন সদস্য রয়েছেন।

বন্যায় ২৪২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার। দুর্গত এলাকাগুলোতে অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ কাজে প্রায় ১৯ হাজার ৮৯৫ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ৮ হাজার ৩৯৯ জন, পুলিশের ৭ হাজার ২১৩ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ৪ হাজার ২০৩ জন সদস্য রয়েছেন।

এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনী ৮ হাজার ১৮৬ জনকে উদ্ধার করেছে। উদ্ধার অভিযানে হেলিকপ্টার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুই দিনে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের ভেতর আটকে থাকা ২৭৯ জনকে হেলিকপ্টারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও ২২৭ জন বিদেশি নাগরিককে আকাশপথে উদ্ধার করা হয়েছে।

মরদেহ শনাক্তে বড় চ্যালেঞ্জ

বিপুলসংখ্যক মরদেহ উদ্ধারের পর এখন সেগুলোর পরিচয় শনাক্ত করাও কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি—এমন মরদেহ সংরক্ষণ ও শনাক্তকরণের জন্য বিভিন্ন জেলার ২১টি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ৬৬৯টি মরদেহের মধ্যে মাত্র ২০টির পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছিল।

দুর্যোগের ভয়াবহতায় হাসপাতালের মর্গ ও মরদেহ সংরক্ষণের জায়গাগুলোতে চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএসহ বিভিন্ন ফরেনসিক তথ্য সংরক্ষণ করে মরদেহগুলোর ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণের অর্থ ও সামগ্রী বিতরণ শুরু করেছে নেপাল সরকার। রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলা প্রত্যেকে ১০ কোটি নেপালি রুপি করে নগদ সহায়তা পেয়েছে। ধাদিং পেয়েছে ৫ কোটি রুপি। এ ছাড়া ১৫টি স্থানীয় ইউনিটের মধ্যে আরও ৬৭ কোটি ৫০ লাখ রুপি বিতরণ করা হয়েছে।

দুর্গত এলাকায় খাদ্য ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাতে ৩৭টি ট্রাক পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ত্রাণ সরবরাহে সাতটি হেলিকপ্টার ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গম এলাকাগুলোতে আকাশপথেই সহায়তা পৌঁছানো হচ্ছে।

তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ ৫৪৬

এদিকে চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতে বন্যা ও ভূমিধসে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৫৪৬ জন। এর মধ্যে ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।

চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ১০৪ জন নেপালি, ৪৯ জন ভারতীয়, ৩৩ জন লাটভিয়ার, ১৮ জন মার্কিন এবং ১৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট বিপর্যয় থেকে এই ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত হয়। পরবর্তী সময়ে ভারী বৃষ্টিপাত ও নদীর পানি বেড়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দুই দেশে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে এবং নতুন ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।