https://www.voiceofpeople24.com/

4977

national

নেপালের জলবিদ্যুৎ বন্ধ, দেশে ঘণ্টায় ৩ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং

প্রকাশিত : ৩০ আগস্ট ২০২৬ ১২:৪৯

নেপালে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও বন্যার কারণে ভারতীয় গ্রিড হয়ে বাংলাদেশে আসা ৩৮ মেগাওয়াট জলবিদ্যুতের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এর সঙ্গে গ্যাস ও কয়লার সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। মাত্র ১৫ হাজার মেগাওয়াটের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে কোনো কোনো সময়ে ঘণ্টায় আড়াই থেকে ৩ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

তবে গ্রাম ও শহরে বিদ্যুতের সমবণ্টন শুরু হওয়ায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিদ্যুতের আসা-যাওয়া কিছুটা কমেছে। বিপরীতে রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে বেড়েছে লোডশেডিং। কোথাও দিনে দুই থেকে তিনবার, আবার কোনো কোনো এলাকায় চারবারও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে শহরাঞ্চলের মানুষের নিত্যদিনের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

এলএনজি সরবরাহেও ঘাটতি

গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর প্রভাব পড়েছে। পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের দুটি এলএনজি টার্মিনাল সচল থাকলেও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এলএনজি কার্গো পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে গ্যাস সরবরাহ এবং মাঝারি সক্ষমতায় টার্মিনালগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে।

শুক্রবার সকাল ১০টায় দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থেকে মোট ৭২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। অথচ দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত সক্ষমতা ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। ওই সময় এলএনজিসহ দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৩৪০ মিলিয়ন ঘনফুট। সংকট শুরুর আগে গড় সরবরাহ ছিল প্রায় ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

নেপালের বিদ্যুৎ ফেরানোর চেষ্টা

পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) জহুরুল ইসলাম জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নেপালের কয়েকটি এলাকায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ভারতীয় গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে বাংলাদেশে যে বিদ্যুৎ আসছিল, সেটিই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

তিনি জানান, নেপাল এখন অন্য একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ভারতীয় গ্রিডে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়া গেলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ আবার শুরু হতে পারে।

দুপুরে ঘাটতি ২২৪৭ মেগাওয়াট

শনিবার বেলা ২টায় দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ হাজার ৮৫৭ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া গেছে ১৩ হাজার ৬১০ মেগাওয়াট। ফলে ওই সময়ে ঘাটতি ছিল ২ হাজার ২৪৭ মেগাওয়াট।

এ সময় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে ৪ হাজার ৮৬০ মেগাওয়াট, তরল জ্বালানি থেকে ২ হাজার ৫৫ মেগাওয়াট, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৫৭৭ মেগাওয়াট এবং আদানির কেন্দ্র থেকে ৯২৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছিল।

এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৬০০ মেগাওয়াট এবং বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছিল।

নেপালের দুর্যোগে বিপর্যস্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ

গত বুধবার চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় ভোতিকোশি নদীর উৎসমুখে হিমবাহ ধসের পর আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে নেপালের রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়ে দেশটির জলবিদ্যুৎ উৎপাদনেও।

এর পরদিন বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে নেপাল থেকে ভারতীয় গ্রিড হয়ে বাংলাদেশে আসা ৩৮ মেগাওয়াট জলবিদ্যুতের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

দুর্যোগে নেপালে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত আক্রান্ত এলাকাগুলো থেকে ছয় শতাধিক মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেও দেশটির কর্তৃপক্ষকে সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।