https://www.voiceofpeople24.com/

4879

economy

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫.৭৫ শতাংশ

প্রকাশিত : ১৬ আগস্ট ২০২৬ ১৩:৫০

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫.৭৫ শতাংশ

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ৪০১ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল আরও বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এ হিসাব দিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস (বিএভি)।

তবে ছয় মাসের হিসাবে রপ্তানি কমলেও জুন মাসে বাংলাদেশি পোশাকের রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। ওই মাসে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে ৭৬ কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার ডলারের পোশাক আমদানি করেছে। গত বছরের জুনের তুলনায় যা ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক আমদানিতেও পতন

বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশটির মোট পোশাক আমদানি মূল্যমানের হিসাবে ৮ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং পরিমাণের হিসাবে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ কমেছে।

অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি যেখানে ৮ শতাংশের বেশি কমেছে, সেখানে বাংলাদেশ থেকে আমদানির পতন হয়েছে তুলনামূলক কম হারে।

এগিয়ে প্রতিযোগী কয়েকটি দেশ

বাজার সংকুচিত হলেও বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিযোগী দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।

জানুয়ারি-জুন সময়ে কম্বোডিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি মূল্যমানের হিসাবে বেড়েছে ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ। একই সময়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং ভিয়েতনাম থেকে ১ দশমিক ০৮ শতাংশ আমদানি বেড়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তান থেকে আমদানি কমেছে ৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। বাংলাদেশের কমেছে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ। ভারত ও চীনের ক্ষেত্রে পতন আরও বড়—যথাক্রমে ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ ও ৩৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

পরিমাণেও বাংলাদেশের পতন তুলনামূলক কম

পোশাক আমদানির পরিমাণের হিসাবেও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির পরিমাণ কমেছে ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

এ সময়ে কম্বোডিয়া থেকে আমদানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া থেকে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ভিয়েতনাম থেকে ৩ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং পাকিস্তান থেকে ২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানির পরিমাণ কমেছে ২২ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং চীন থেকে ২৬ দশমিক ৩০ শতাংশ।

কমেছে পোশাকের গড় দামও

রপ্তানি মূল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের পোশাকের গড় ইউনিট মূল্যও কিছুটা কমেছে। জানুয়ারি-জুন সময়ে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ২ দশমিক ১৫ শতাংশ। ভিয়েতনামের ক্ষেত্রেও একই হারে কমেছে।

এ ছাড়া কম্বোডিয়ার পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য কমেছে ১ দশমিক ৯৮ শতাংশ, ভারতের ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ, পাকিস্তানের ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং চীনের ১৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

বিএভির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বছরের প্রথমার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমলেও চীন ও ভারতের তুলনায় পতনের হার কম। বাংলাদেশের পরিস্থিতি পাকিস্তানের কাছাকাছি।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দেশটির সামগ্রিক পোশাক আমদানির নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্যেও বাংলাদেশের রপ্তানি পরিস্থিতি তৈরি পোশাক খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।