https://www.voiceofpeople24.com/
4877
international
প্রকাশিত : ১৬ আগস্ট ২০২৬ ১৩:৪৩
স্থানীয় সময় শনিবার সকালে পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশে আঘাত হানে ভূমিকম্পটি। এতে ৩৬ জন গুরুতর আহত এবং আরও ৭৭ জন সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী বেঞ্জামিন পাউলুস অক্টাভিয়ানুস।
ভূমিকম্পের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে সিক্কা ও মাউমেরে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা বিএনপিবি জানিয়েছে, সিক্কা অঞ্চলে ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিজেরাই নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন অথবা একটি ক্রীড়াঙ্গনে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেক বাসিন্দা ধসে পড়া বাড়িঘরের বাইরে ত্রিপল টাঙিয়ে রাত কাটিয়েছেন।
বন্দরনগরী মাউমেরেতেও ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতালের বাইরে তাঁবু স্থাপন করে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, আফটারশকের আশঙ্কায় অনেকেই ঘরে ফিরতে সাহস করছেন না।
ভূমিকম্পের পর ভূমিধসে বেশ কয়েকটি সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুর্গম এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হয়। তবে উদ্ধারকারীরা মাউমেরের ভূমিধসে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া কয়েকটি এলাকায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে বিএনপিবি।
এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০টির বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ২০টি পেট্রল স্টেশনও কার্যক্রম চালাতে পারছে না বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেরতামিনা।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে ৩ হাজার ৫০০-এর বেশি সামরিক ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গত এলাকায় দ্রুত সম্পদ ও অর্থায়ন নিশ্চিত করতে পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিষয়টিও বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ।
ইন্দোনেশিয়ার ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা জানিয়েছে, একই এলাকা ১৯৯২ সালে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে আক্রান্ত হয়েছিল। সেই ভূমিকম্পেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছিল।
সর্বশেষ ভূমিকম্পটি ২০২২ সালের পশ্চিম জাভার ভূমিকম্পের পর ইন্দোনেশিয়ায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী বলে জানিয়েছে রয়টার্স। দেশটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।