https://www.voiceofpeople24.com/
4876
politics
লোডশেডিং সমস্যা
প্রকাশিত : ১৬ আগস্ট ২০২৬ ১৩:৩৯
প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে চার দফা সমাধান-পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টের শুরুতেই তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ তারা গ্রহণ করেছেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা প্রদানের জন্য ছয় মাসের আলটিমেটাম দিয়ে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন। আমরা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলাম এবং সমাধান-পরিকল্পনা প্রস্তাব করছি।’
হাসনাতের দাবি, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে একাধিক সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি—এই তিন পর্যায়ে মোট ১৫ দফা পরিকল্পনা দিয়েছেন।
এ ছাড়া ভর্তুকি নীতি, জ্বালানি পরিকল্পনা, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান ও ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যান নিয়েও বিরোধী দলের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে মতামত দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। নাগরিক সমাজ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকেও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব এসেছে বলে দাবি করেন হাসনাত।
সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের নিয়ে গঠিত টিমের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি দাবি করেন, বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের দেওয়া প্রস্তাবগুলো সরকারের সংশ্লিষ্টদের পর্যালোচনা করা উচিত ছিল। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিশেষ সংসদীয় অধিবেশন আহ্বানের অনুরোধেও সাড়া দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পরিকল্পনার ঘাটতির জন্য প্রশাসনে ব্যাপক দলীয় পদায়নকেও দায়ী করেছেন হাসনাত।
তার অভিযোগ, প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে ‘ইনস্টিটিউশনাল মেমরি’ দুর্বল হয়েছে। এর ফলে ফুয়েল প্ল্যান, কন্টিনজেন্সি প্ল্যান ও ডিজাস্টার রিকভারি প্ল্যানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি নেই।
মহেশখালীর এফএসআরইউতে আগুন লাগার ঘটনাটির স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকারের কাছে সবচেয়ে নির্দিষ্ট দাবি হিসেবে ২০২৫ সালের মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেছেন হাসনাত।
তিনি বলেন, এই নীতির আওতায় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা সরাসরি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে। দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে দাম নির্ধারণ করবে এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিষয়টি অবহিত থাকবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডেও দেওয়া যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হাসনাতের দাবি, এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে না। এ জন্য শুধু এসএলএ ফরম্যাট ও হুইলিং চার্জ চূড়ান্ত করলেই হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টের শেষদিকে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ অনুযায়ী ছয় মাসের সময়সীমা তারা মেনে নিচ্ছেন। তবে এই সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের দায় সরকারের বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষায়, ‘সমাধান আমাদের হাতে আছে। কিন্তু ক্ষমতা আপনার হাতে। ছয় মাস পর জনগণ জানতে চাইবে, দুটোর মধ্যে কোনটির অভাবে দেশ অন্ধকারে ছিল।’
এর আগে শনিবার রাজধানীর মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিরোধী দল তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানের পরিকল্পনা দিতে পারলে সরকার তা গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে তিনি বিরোধী দলকে ‘বিভ্রান্তির রাজনীতি’ বাদ দিয়ে জনগণের উপকারে আসে—এমন পরিকল্পনা উপস্থাপনের আহ্বান জানান।