https://www.voiceofpeople24.com/
4743
economy
প্রকাশিত : ২৯ জুলাই ২০২৬ ১০:৩৫
যুক্তরাষ্ট্রে ট্যালকমযুক্ত বেবি পাউডার ও অন্যান্য পণ্যের ব্যবহারে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে—এমন অভিযোগে দায়ের হওয়া হাজারো মামলা নিষ্পত্তিতে প্রায় ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলার পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছে বহুজাতিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন (জে অ্যান্ড জে)। দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান ঘটাতেই কোম্পানিটি এই সমঝোতা উদ্যোগ নিয়েছে।
যদিও শুরু থেকেই জে অ্যান্ড জে দাবি করে আসছে, তাদের ট্যালকমভিত্তিক পণ্য ক্যানসারের কারণ নয় এবং এসব অভিযোগের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এদিকে বিতর্কের পর কোম্পানিটি তাদের বহুল ব্যবহৃত বেবি পাউডারের ফর্মুলাও পরিবর্তন করেছে।
সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জনসন অ্যান্ড জনসনের লিটিগেশনবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট এরিক হাস বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। তবে দীর্ঘমেয়াদি আইনি অনিশ্চয়তা দূর করতে এবং বিষয়টির স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করতেই প্রতিষ্ঠানটি সমঝোতার পথে এগোতে চায়।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছর ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার পরিশোধ করবে জে অ্যান্ড জে। এরপর ২০২৮ সালের আগে অতিরিক্ত কোনো অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
তবে এই সমঝোতা কার্যকর করতে হলে রাজ্য ও ফেডারেল আদালতে ডিম্বাশয়ের ক্যানসারসংক্রান্ত অন্তত ৯৫ শতাংশ মামলাকারীর প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মতি প্রয়োজন হবে।
এরিক হাসের দাবি, আদালতে মামলা চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত কোম্পানিই জয়ী হতো, যেমন অতীতের অধিকাংশ মামলায় হয়েছে। তাঁর মতে, সমঝোতা হলে প্রতিষ্ঠানটি আইনি লড়াই থেকে বেরিয়ে জীবনরক্ষাকারী ওষুধ এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি উন্নয়নে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবে।
জনসন অ্যান্ড জনসনের বিরুদ্ধে ট্যালকমভিত্তিক বেবি পাউডার নিয়ে প্রথম মামলা হয় ২০০৯ সালে। সম্প্রতি চলতি মাসের শুরুতে একটি ফেডারেল আদালতও পর্যবেক্ষণ দিয়েছে যে, ট্যালকম পাউডার সরাসরি ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের কারণ—এমন প্রমাণ উপস্থাপনে মামলাকারীদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
ট্যালকম একটি প্রাকৃতিক খনিজ, যা ম্যাগনেসিয়াম, সিলিকন, অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন দিয়ে গঠিত এবং মসৃণতার জন্য বেবি পাউডারে ব্যবহার করা হয়। তবে মামলাকারীদের অভিযোগ, ট্যালকম উত্তোলনের সময় এতে ক্যানসার সৃষ্টিকারী অ্যাসবেস্টস মিশে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
অন্যদিকে জে অ্যান্ড জে বরাবরই বলছে, তাদের ব্যবহৃত ট্যালকমে কোনো অ্যাসবেস্টস নেই এবং বিভিন্ন গবেষণায় এর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে। তবুও বিতর্কের জেরে কোম্পানিটি ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এবং ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী ট্যালকমভিত্তিক বেবি পাউডার বিক্রি বন্ধ করে ভুট্টার স্টার্চভিত্তিক নতুন পণ্যে রূপান্তর শুরু করে।
বর্তমানে উত্তর আমেরিকার বাইরে জনসনস বেবি পাউডারসংক্রান্ত যেকোনো আইনি দায়ভার বহন করছে ‘কেনভিউ’ নামের প্রতিষ্ঠান, যা ২০২২ সালে জনসন অ্যান্ড জনসন থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন কোম্পানি হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। ব্যান্ড-এইড, লিস্টারিন ও ক্যালপলসহ জনপ্রিয় একাধিক ভোক্তা পণ্যের মালিকও এখন কেনভিউ।