https://www.voiceofpeople24.com/

4846

international

তুর্কমেনিস্তান-ইরান-আফগানিস্তান-পাকিস্তান হয়ে ভারত পর্যন্ত বিকল্প রুটের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রস্তাব

হরমুজ-বসফরাস এড়িয়ে ভারত মহাসাগরে রেলপথ চায় রাশিয়া

প্রকাশিত : ১০ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪২

বসফরাস ও হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী মারাত খুসনুলিন রুশ বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

খুসনুলিন বলেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোর ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত একটি রেলপথ নির্মাণের সম্ভাবনা পরীক্ষা করা উচিত। এ ক্ষেত্রে তুর্কমেনিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান হয়ে ভারত পর্যন্ত সম্ভাব্য বিভিন্ন রুট বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।

রুশ উপপ্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত পর্যন্ত যোগাযোগ তৈরি করতে পারে—এমন যেকোনো বিকল্প স্থলপথ বিবেচনা করা হবে। তবে প্রস্তাবিত রেলপথের নির্দিষ্ট দৈর্ঘ্য, নির্মাণ ব্যয় কিংবা কাজ শুরুর সময়সীমা সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দেননি।

সরাসরি স্থলপথে রাশিয়া-ভারত বাণিজ্যের সম্ভাবনা

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে সরাসরি স্থলপথে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে দুই দেশের বাণিজ্যে সামুদ্রিক রুটের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি নতুন একটি বাণিজ্য করিডর গড়ে উঠতে পারে।

সম্ভাব্য রুটটি রাশিয়া থেকে মধ্য এশিয়া হয়ে তুর্কমেনিস্তান, এরপর ইরান ও আফগানিস্তান হয়ে পাকিস্তান এবং সেখান থেকে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছাতে পারে। তবে এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের একটি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রস্তাব; কোনো নির্দিষ্ট রুট বা প্রকল্প চূড়ান্ত হয়নি।

হরমুজের অস্থিরতার মধ্যে প্রস্তাব

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক অস্থিরতার মধ্যেই রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিকল্প বাণিজ্যপথের এই প্রস্তাব সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়। ফলে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী কোনো সংকট তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে রাশিয়ার প্রস্তাবিত স্থলপথকে দীর্ঘমেয়াদে ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগের একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে একাধিক দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার, অবকাঠামো নির্মাণ, নিরাপত্তা, রাজনৈতিক সমঝোতা এবং আন্তঃদেশীয় সহযোগিতার মতো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি রাশিয়া।

নির্মাণ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান

সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নির্মাণ খাত নিয়েও কথা বলেছেন খুসনুলিন। তিনি জানান, দেশটির নির্মাণশিল্পে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

তাঁর দাবি, রুশ নির্মাণশিল্প বর্তমানে বছরে অতিরিক্ত এক ট্রিলিয়ন রুবেল ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা রাখে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে এই খাতের সক্ষমতা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

রাশিয়ার এই প্রস্তাব এমন এক সময়ে এসেছে, যখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা ও নৌপথের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাস্তবে রূপ পেলে প্রস্তাবিত রেলপথ রাশিয়া, ভারত ও ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে পণ্য পরিবহনে নতুন একটি করিডর তৈরি করতে পারে। তবে আপাতত এটি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়েই রয়েছে।