https://www.voiceofpeople24.com/
4849
sports
প্রকাশিত : ১০ আগস্ট ২০২৬ ১০:৫৪
প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ সফর করার কথা ভারতের। ভারতীয় দলের বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ২৮ আগস্ট। তিনটি ওয়ানডে হওয়ার কথা ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর। এরপর ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলার সূচি রয়েছে।
তবে নির্ধারিত সময় যতই এগিয়ে আসছে, সফরটি আদৌ হবে কি না—সে বিষয়ে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকেই এখনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল সম্প্রতি ভারত সফর করেন। পরে তিনি দুবাইয়ে আইসিসির সভায় যোগ দেন। এসব সফরে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে প্রস্তাবিত সিরিজ নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
তবে বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে সফর নিয়ে কোনো চূড়ান্ত নিশ্চয়তা পাননি তামিম। ভারতীয় বোর্ডের অবস্থান হলো, সফরটি মূলত ভারত সরকারের নির্দেশনা ও অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে বিসিসিআইয়ের শীর্ষ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বোর্ড এককভাবে সফরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। এ বিষয়ে সরকারের দিকনির্দেশনা প্রয়োজন।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বিসিবি ইতিমধ্যে বিসিসিআইকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে এবং দুই বোর্ডের মধ্যে সিরিজ নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে।
বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তাও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, এটি এখন আর শুধু বোর্ড-টু-বোর্ডের বিষয় নয়; দুই দেশের সরকারের সিদ্ধান্তও এর সঙ্গে জড়িত।
ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার পেছনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলিও বড় ভূমিকা রাখছে। গত ৫ আগস্ট ভারতের নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এর প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ-ভারত রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডও সফরটি নিয়ে খুব একটা আশাবাদী নয়। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো সফর বাতিল বা স্থগিতের কোনো ঘোষণা আসেনি।
ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই আশার কথা জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
গতকাল কমলাপুর স্টেডিয়াম পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সরকার কাজ করছে। ভারতের হাইকমিশন ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। দ্রুতই একটি সমাধানে পৌঁছানোর আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের বড় ঘটনা ঘটে গত জানুয়ারিতে। বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
এর কয়েক দিনের মধ্যেই নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শের কথা উল্লেখ করে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত সফর না করার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আইসিসির কাছে আবেদন করা হয়।
মোস্তাফিজুরকে ঘিরে বিতর্কের প্রভাব ক্রিকেটের বাইরেও পড়ে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএলের সম্প্রচার ও প্রচারণা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।
মার্চে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর তামিম ইকবালের নেতৃত্বে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়। এরপর বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক আগের তুলনায় স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছিল।
তবে নতুন করে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে সেই সম্পর্কের ওপরও অনিশ্চয়তার ছায়া পড়েছে।
সব মিলিয়ে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরের সময় ঘনিয়ে এলেও এখনো চূড়ান্ত নিশ্চয়তা মিলছে না। সফরটি শেষ পর্যন্ত হবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে দুই দেশের সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।