https://www.voiceofpeople24.com/
4847
whole-country
ক্ষমা চাওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার
প্রকাশিত : ১০ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪৫
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন ও ডেঙ্গু রোগীদের প্রয়োজনীয় ইনজেকশন না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীনকে বদলির নির্দেশ দেন তিনি। তবে নির্দেশ দেওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই সিভিল সার্জনের ক্ষমা প্রার্থনার পর সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়।
রোববার সকালে আকস্মিক সফরে চাঁদপুরে গিয়ে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছে তিনি চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। এ সময় রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন।
হাসপাতাল পরিদর্শনের একপর্যায়ে মন্ত্রীর নজরে আসে, টানা তিন দিন ধরে সেখানে অ্যান্টি-র্যাবিস বা জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নেই। একই সঙ্গে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ইনজেকশনের মজুতও শেষ হয়ে গেছে। জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন মন্ত্রী।
এ সময় তিনি সেলফোনে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে চাঁদপুরের সিভিল সার্জনকে দায়িত্বে অবহেলার কারণে বদলির নির্দেশ দেন।
মন্ত্রীর নির্দেশের পর চাঁদপুরের স্বাস্থ্য বিভাগে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। দুপুর দেড়টার দিকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন।
তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চান। সিভিল সার্জন বলেন, জরুরি ভ্যাকসিন ও ইনজেকশনের মজুত শেষ হওয়ার বিষয়টি দ্রুত সমাধান এবং যথাযথভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভুল হয়েছে।
পরে মন্ত্রী তাঁর বদলির নির্দেশ প্রত্যাহার করেন। বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন নিজেই। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়ার পর মন্ত্রী তাঁকে ক্ষমা করে বদলির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছেন।
হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের পর দুপুর ১২টার দিকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। সেখানে রোগীদের জন্য সরবরাহ করা খাবার নিজে খেয়ে এর মান যাচাই করেন তিনি।
পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী।
বিকেল ৩টার দিকে মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অবগত হন। চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়ন ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।
মন্ত্রীর চাঁদপুরের বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সলিম উল্যা সেলিম, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমানসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা, ওষুধ ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর মজুত এবং রোগীদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।