https://www.voiceofpeople24.com/
4840
tourism
প্রকাশিত : ০৯ আগস্ট ২০২৬ ১১:০৩
প্রকৃতির এমন বিচিত্র রূপ দেখতে চাইলে এশিয়ার কয়েকটি সৈকত ভ্রমণতালিকায় রাখতে পারেন।
ফিলিপাইনের এল নিডো অঞ্চলের নাকপান বিচ প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ সোনালি বালুর জন্য পরিচিত। সৈকতজুড়ে সারি সারি নারকেলগাছ আর তুলনামূলক নিরিবিলি পরিবেশ এটিকে ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্রগুলোর চেয়ে আলাদা করেছে। নির্জনতা ও প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চাইলে এটি হতে পারে দারুণ গন্তব্য।
জাপান মানেই শুধু চেরি ব্লসম কিংবা ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়। ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের ইয়োনাহা মায়াহামা বিচও দেশটির অন্যতম আকর্ষণ। প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ সাদা বালুর এই সৈকতের অগভীর পানির রং পান্না-সবুজ। স্বচ্ছ পানি ও প্রশস্ত বালুচরের কারণে এটি জাপানের অন্যতম সেরা সৈকত হিসেবে পরিচিত।
গোলাপি বালুর সৈকত পৃথিবীতে খুব বেশি নেই। ইন্দোনেশিয়ার কোমোডো দ্বীপের পিঙ্ক বিচ সেই বিরল তালিকার একটি। সাদা বালুর সঙ্গে ‘ফোরামিনিফেরা’ নামের অণুজীবের লাল কণিকা মিশে বালুর রং গোলাপি হয়ে যায়। স্বচ্ছ পানির কারণে স্নোরকেলিংয়ের জন্যও জায়গাটি বেশ জনপ্রিয়।
নিরিবিলি পরিবেশে সমুদ্র উপভোগ করতে চাইলে শ্রীলঙ্কার তাঙ্গালে বিচ হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। নারকেলগাছ ও সোনালি বালুর এই সৈকতে পর্যটকের ভিড় তুলনামূলক কম। ভাগ্য ভালো হলে এখানে ডিম পাড়তে আসা সামুদ্রিক কচ্ছপেরও দেখা মিলতে পারে।
বোরাকে দ্বীপের হোয়াইট বিচ নামের মতোই সাদা বালুর জন্য বিখ্যাত। এখানকার বালু এতটাই সূক্ষ্ম যে পাউডারের মতো মনে হয়। স্বচ্ছ নীল পানি ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ সৈকতটির অন্যতম আকর্ষণ। পরিবেশ রক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও অনেকটাই সংরক্ষিত হয়েছে।
দিনের বেলা মালদ্বীপের ভাধু আইল্যান্ড সুন্দর হলেও রাত নামলে এর সৌন্দর্য যেন অন্য মাত্রা পায়। ‘সি অব স্টারস’ নামে পরিচিত প্রাকৃতিক দৃশ্যের কারণে অন্ধকারে সমুদ্রের ঢেউ নীল আলোয় জ্বলজ্বল করতে দেখা যায়। পানিতে থাকা বিশেষ ধরনের প্লাঙ্কটনের জৈব আলোক বিচ্ছুরণ থেকেই তৈরি হয় এই অপূর্ব দৃশ্য।
প্রায় ১০০ মিটার উঁচু চুনাপাথরের পাহাড়ে ঘেরা মায়া বে থাইল্যান্ডের অন্যতম পরিচিত সৈকত। চারপাশের বিশাল পাহাড় ও নীল জলরাশি মিলে তৈরি করেছে অসাধারণ প্রাকৃতিক দৃশ্য। অতিরিক্ত পর্যটনের কারণে পরিবেশের ওপর চাপ কমাতে কয়েক বছর সৈকতটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে সীমিতসংখ্যক পর্যটকের জন্য এটি আবার খুলে দেওয়া হয়।
ইন্দোনেশিয়ার নুসা পেনিডা দ্বীপের কেলিংকিং বিচ ওপর থেকে দেখলেই মুগ্ধ হতে হয়। সৈকতকে ঘিরে থাকা পাহাড়ের আকৃতি অনেকটা টি-রেক্স ডাইনোসরের মতো। পাহাড়ের ওপর থেকে পাওয়া সমুদ্রের প্যানোরামিক দৃশ্য অসাধারণ। তবে নিচের সৈকতে যাওয়ার পথ বেশ খাড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সতর্কতা প্রয়োজন।
ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের রাধানগর বিচ ঘন সবুজ বন আর তুর্কাইজ নীল সমুদ্রের অপূর্ব সমন্বয়। ‘বিচ নম্বর সেভেন’ নামেও পরিচিত এই সৈকত। পরিচ্ছন্নতা ও তুলনামূলক শান্ত পরিবেশের কারণে এটি প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়।
উঁচু কার্স্ট পাহাড়ে ঘেরা রাইলে বিচে সড়কপথে সরাসরি পৌঁছানো যায় না। মূল ভূখণ্ড থেকে লংবোটে করে যেতে হয় সেখানে। বিচ্ছিন্ন এই অবস্থান সৈকতটিকে দিয়েছে শান্ত ও মনোরম পরিবেশ। একই সঙ্গে বিশাল পাথুরে পাহাড় থাকায় রক ক্লাইম্বিংপ্রেমীদের কাছেও এটি বেশ জনপ্রিয়।
প্রকৃতির ভিন্ন ভিন্ন রূপ উপভোগ করতে চাইলে এশিয়ার এসব সৈকত হতে পারে দারুণ কিছু গন্তব্য। তবে ভ্রমণের আগে স্থানীয় আবহাওয়া, প্রবেশের নিয়ম ও পরিবেশ সংরক্ষণসংক্রান্ত নির্দেশনা জেনে নেওয়া জরুরি।