https://www.voiceofpeople24.com/
4825
international
প্রকাশিত : ০৮ আগস্ট ২০২৬ ১২:২৬
অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন এলাকার নাম পরিবর্তন করে চীনের দাবি ও নামকরণের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে রাজ্যটির ২৭টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যকে ভারতের সরকারি মানচিত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে নয়াদিল্লি।
শুক্রবার ‘সার্ভে অব ইন্ডিয়া’র প্রকাশিত সরকারি মানচিত্রে এসব স্থানের ভারতীয় নাম যুক্ত করা হয়। ভারতের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, স্থানগুলোকে মানচিত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্য হলো এসব এলাকার সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা এবং জনসাধারণের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা।
নতুন মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত ২৭টি স্থানের মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি এলাকা। এর মধ্যে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) সংলগ্ন লং জু উল্লেখযোগ্য। ১৯৫৯ সালে ভারত-চীন সীমান্ত উত্তেজনার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল এই এলাকা।
আপার সুবানসিরি জেলার মাজা গ্রামও নতুন মানচিত্রে স্থান পেয়েছে। এছাড়া ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাগ লা গিরিপথ, বিসা গ্রাম, জো লা, রিজা লা ও পুকুর লার মতো গুরুত্বপূর্ণ পার্বত্য এলাকাও তালিকায় রয়েছে।
পূর্ব অরুণাচলে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচল ও রসদ সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত চ্যাংলাং জেলার জয়রামপুরও সরকারি মানচিত্রে যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন তালিকায় ১৯৬২ সালের যুদ্ধে ভারতীয় সেনাসদস্যদের স্মরণে নির্মিত কয়েকটি স্থানও রয়েছে। এর মধ্যে তাওয়াং রোডের জাসওয়ান্তগড় এবং মেজর ত্রিলোক সিং থাপার স্মরণে নির্মিত শের-ই-থাপা মেমোরিয়াল উল্লেখযোগ্য।
এছাড়া সংভো সরোবর, বড় কুন্দুন, ছোট কুন্দুন, ধান বাড়ি, প্রীতনগর, তেরিতনগর, রামনগর, সাগর, পদ্মা, জ্যোতিনগর, বৈশাখী, ছোট রোপুক, বড় রোপুক, শিবাজী নগর, সুনপুরা, কামলাং নগর ও বুদ্ধ মন্দিরসহ আরও বেশ কয়েকটি স্থান মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অরুণাচল প্রদেশকে চীন ‘জাংনান’ বা ‘দক্ষিণ তিব্বত’ হিসেবে দাবি করে আসছে। একই সঙ্গে রাজ্যটির বিভিন্ন স্থানের নিজস্ব চীনা নাম ঘোষণা করে আসছে বেইজিং।
২০১৭ সালে অরুণাচলের ছয়টি স্থানের চীনা নামের প্রথম তালিকা প্রকাশ করে চীন। এরপর ২০২১ সালে আরও ১৫টি এবং ২০২৩ সালে ১১টি স্থানের নাম প্রকাশ করা হয়।
চীনের এসব পদক্ষেপ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। নয়াদিল্লির দাবি, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং স্থানগুলোর নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে বাস্তবতা বদলানো সম্ভব নয়।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চীনের এমন নামকরণকে ভিত্তিহীন বলে অভিহিত করেছে। নয়াদিল্লির মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টাকেও আরও জটিল করে তুলতে পারে।