https://www.voiceofpeople24.com/
4834
international
মধ্যপ্রাচ্য
প্রকাশিত : ০৯ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪১
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধের অবসান ও একাধিক শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না বলে জানিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর শনিবার এ অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জোলঘাদর বলেন, হরমুজ প্রণালি খুলতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে তাদের আচরণ পরিবর্তন করতে হবে। একই সঙ্গে ইরান ও অঞ্চলটিতে দেশটির মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়েছে।
ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—তেহরানকে আর কোনো ধরনের হুমকি বা অপমান করা যাবে না, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে এবং দেশটির আশপাশ থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী সরিয়ে নিতে হবে।
এ ছাড়া চলমান সংঘাতে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার দাবিও জানিয়েছে তেহরান।
ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এর আগে ওয়াশিংটন জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালির নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের আগে তারা একটি গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়।
এদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনাও অব্যাহত রয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে তারা। তবে প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কিছু শর্ত রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান।
আলোচনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ উঠেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল কোম্পানি অ্যাডনকের একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। হামলায় কেউ হতাহত হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
অ্যাডনক জানিয়েছে, চলতি সংঘাত শুরুর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় তাদের একাধিক জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় একজন নাবিক নিহত ও আরও ২০ জন আহত হয়েছেন বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে।
পরে যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার (ইউকেএমটিও) জানায়, ওমানের খাসাব শহরের পূর্ব দিকে একটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে গেলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। জাহাজ ও নাবিকেরা নিরাপদে রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে এই ঘটনাটি আমিরাতের ওই জাহাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।