https://www.voiceofpeople24.com/

4778

international

সোমবার ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনা শুরু হবে: ট্রাম্প

প্রকাশিত : ০৩ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪০

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হবে সোমবার। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত একটি বড় সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে, কারণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান বুঝতে পেরেছিল যে হামলার প্রস্তুতি চলছিল। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ায় সামরিক পদক্ষেপ থেকে আপাতত বিরত থাকা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা আলোচনার মাধ্যমে এগোচ্ছি। আগামীকাল বিকেল থেকে আলোচনা শুরু হবে।’

এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, একটি সম্ভাব্য চুক্তির মৌলিক কাঠামো তৈরিতে সম্মতি দেওয়ায় ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মিত্র দেশ তাঁকে হামলা না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ইরান। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের অবসানের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আলোচনা শুরুর পরও উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আবারও শুরু হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সম্ভাব্য কোনো চুক্তির সময়সীমা নির্ধারণ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, পরিস্থিতি কীভাবে এগোয় তা দেখা হবে এবং তিনি যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানেই গুরুত্ব দিতে চান।

ট্রাম্প আরও জানান, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের নেতারা তাঁকে ইরানের ওপর সামরিক হামলা না চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁদের বিশ্বাস, হরমুজ প্রণালি ও পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।

তবে সোমবারের বৈঠক কোথায় অনুষ্ঠিত হবে কিংবা এতে কারা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

অন্যদিকে ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেছেন, তেহরান প্রতিটি হুমকিকেই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ইরান কখনো অপ্রস্তুত থাকবে না এবং প্রয়োজনীয় জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে।

এদিকে ট্রাম্পের আলোচনার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে দাম কমেছে। সোমবার এশিয়ার লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুড ও যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম চার শতাংশের বেশি কমে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির আশা এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা কিছুটা কমার প্রত্যাশায় বাজারে এ প্রভাব দেখা গেছে।