https://www.voiceofpeople24.com/
4775
national
গ্যাস-সংকট
প্রকাশিত : ০৩ আগস্ট ২০২৬ ১০:৩০
বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার ঢাকায় জ্বালানি সহযোগিতা বিষয়ক এক বৈঠকে বাংলাদেশ মিয়ানমারকে পাইপলাইনে গ্যাস রপ্তানির প্রস্তাব দেয়। অন্যদিকে মিয়ানমার বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানির আগ্রহ প্রকাশ করে। উভয় প্রস্তাবের অর্থনৈতিক ও কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই করতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, দেশের গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে মিয়ানমার থেকে পাইপলাইনে গ্যাস আমদানির বিষয়ে বাংলাদেশ বিশেষভাবে আগ্রহী। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে মিয়ানমারকে মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ে জানান, বাংলাদেশে গ্যাস রপ্তানির বিষয়ে তাঁর দেশ ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ কারিগরি কমিটির বৈঠক আয়োজনেরও প্রস্তাব দেন।
বর্তমানে দেশে প্রতিদিন প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৭০ থেকে ২৮০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে ৮০ থেকে ১০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। সম্প্রতি একটি এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের কারণে সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ায় শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন এবং আবাসিক খাতে তীব্র গ্যাস সংকট সৃষ্টি হয়েছে।
জ্বালানির বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া থেকেও এলএনজি আমদানির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের সময় প্রস্তাবিত চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডরের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে পাইপলাইন নির্মাণ হলে এই করিডরের কার্যকারিতা আরও বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, মিয়ানমার এশিয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ। দেশটি বর্তমানে চীন ও থাইল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ গ্যাস রপ্তানি করে এবং প্রাকৃতিক গ্যাস দেশটির প্রধান রপ্তানি পণ্যের অন্যতম।