https://www.voiceofpeople24.com/
4776
national
প্রকাশিত : ০৩ আগস্ট ২০২৬ ১০:৩৪
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও সাশ্রয়ী যাতায়াত নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় জেলা শহরগুলোতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক গণপরিবহন চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ভোগান্তি কমানো, সড়কের যানজট হ্রাস এবং পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ‘বৃহৎ জেলা শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণপরিবহনভিত্তিক যাতায়াতব্যবস্থা’ নামে একটি প্রাথমিক প্রকল্পের খসড়া তৈরি করেছে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত ১৪ জুলাই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত প্রকল্প যাচাই কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা আরও গভীরভাবে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাউশি জানিয়েছে, বর্তমানে প্রকল্পটি পরিকল্পনার প্রাথমিক ধাপে রয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট) কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ফলাফল ইতিবাচক হলে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত ও অনুমোদনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন শুরু হবে।
বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ২৩ হাজার ৯৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কিছু পরিবহন সুবিধা থাকলেও স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিকল্পিত গণপরিবহনের ব্যবস্থা নেই। ফলে তাদের সাধারণ গণপরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা বিশেষ করে স্কুল শুরু ও ছুটির সময়ে অতিরিক্ত ভিড়, যানজট এবং অনিয়মিত সেবার কারণে বড় ধরনের ভোগান্তির সৃষ্টি করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থান, শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং যাতায়াতের চাহিদা বিবেচনায় নির্দিষ্ট রুট ও সময়সূচি নির্ধারণ করে পরিবেশবান্ধব জিপিএস-সুবিধাসম্পন্ন ইলেকট্রিক বাস চালু করা হবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর, ময়মনসিংহ ও বগুড়াসহ ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় এ সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষাবিদ ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বা ভাড়ায় চালিত ছোট যানবাহনের ওপর নির্ভরতা কমবে, অভিভাবকদের ব্যয় হ্রাস পাবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন সড়কে যানজটও কমে আসবে। তবে তারা মনে করেন, কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সঠিক রুট পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বাস, সাশ্রয়ী ভাড়া এবং প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।