https://www.voiceofpeople24.com/
4769
economy
অর্থনীতি
প্রকাশিত : ০২ আগস্ট ২০২৬ ১৪:১৭
নতুন বাণিজ্য চুক্তি ও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক কমানোর সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক তৈরি পোশাক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে ভারত। বিশেষ করে ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং প্রস্তাবিত ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এফটিএকে ঘিরে দেশটির পোশাক শিল্পে নতুন আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কম উৎপাদন খরচ ও বৃহৎ রপ্তানি সক্ষমতার কারণে বাংলাদেশ এখনো ভারতের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান মতিলাল ওসওয়ালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পোশাকের ওপর আরোপিত শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমে ১০ শতাংশে নামায় বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের তুলনায় ভারতের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অনেকটাই শক্তিশালী হয়েছে। এতে ২০২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধে ভারতের পোশাক রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, গত ১৫ জুলাই কার্যকর হওয়া ভারত-যুক্তরাজ্য এফটিএর ফলে ভারতীয় পোশাকের ওপর যুক্তরাজ্যের ৮ থেকে ১২ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এর ফলে আগামী কয়েক বছরে যুক্তরাজ্যের পোশাক বাজারে ভারতের অংশীদারত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, ২০২৭ সালে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা থাকা ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিও ভারতের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে। এই চুক্তি কার্যকর হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভারতীয় পোশাকের ওপর বিদ্যমান ১০ থেকে ১২ শতাংশ শুল্ক উঠে যাবে। ফলে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর সমপর্যায়ের শুল্ক সুবিধা পাবে ভারত।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলো বর্তমানে চীন ও বাংলাদেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎস খুঁজছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারত নিজেদের রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
ভারতের আরেকটি বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তাদের সমন্বিত টেক্সটাইল সরবরাহ ব্যবস্থা। তুলা উৎপাদন থেকে শুরু করে সুতা, কাপড় এবং পোশাক উৎপাদন—পুরো প্রক্রিয়াই দেশটির নিজস্ব শিল্প কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হয়। এই স্বয়ংসম্পূর্ণ উৎপাদন ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে তুলে ধরছে।
তবে এসব ইতিবাচক দিকের পরও বাংলাদেশ এখনো প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা ধরে রেখেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শ্রমিকদের মজুরি ভারতের তুলনায় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কম। যেহেতু পোশাক উৎপাদনের মোট ব্যয়ের একটি বড় অংশ শ্রম ব্যয়, তাই কম খরচে উৎপাদনের সুবিধা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করছে।
এছাড়া বড় অর্ডার গ্রহণের সক্ষমতার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। দেশের শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক আয় ও উৎপাদন সক্ষমতা ভারতের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি। ফলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর বড় অর্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
মতিলাল ওসওয়ালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নতুন বাণিজ্য চুক্তি, মার্কিন বাজারে চাহিদা বৃদ্ধি এবং শুল্ক সুবিধার কারণে ২০২৬ থেকে ২০২৮ অর্থবছরের মধ্যে ভারতের টেক্সটাইল ও পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। তবে বাংলাদেশের কম উৎপাদন ব্যয়, বৃহৎ উৎপাদন সক্ষমতা এবং দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক বাজার অবস্থান ভারতের জন্য প্রতিযোগিতাকে এখনো কঠিন করে রাখবে।
তথ্যসূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস।