https://www.voiceofpeople24.com/
5109
opinion
প্রকাশিত : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৫৭
হাবিবুর রহমান হাবিব, শাল্লা (সুনামগঞ্জ) থেকে:বর্ষায় থৈ থৈ জলরাশি আর হেমন্তে বিস্তৃত সবুজের সমারোহ—ভাটি বাংলার এক প্রাণবন্ত জনপদ সুনামগঞ্জের শাল্লা। কালনী, কুশিয়ারা, সুরমা ও দাঁড়াইন নদীর পলিঘেঁষে গড়ে উঠেছে এই ভূখণ্ড। যদিও শাল্লা নামকরণের সর্বজনগ্রাহ্য কোনো একক ইতিহাস পাওয়া যায় না, তবুও এখানকার লোককথা, প্রাচীন ঐতিহ্য ও আবহমান সংস্কৃতির সুবাস ছড়িয়ে রয়েছে চারদিকে।
প্রাচীন গৌড় রাজ্যের শাসনকাল থেকে শুরু করে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর সিলেট বিজয়ের পর পর্যায়ক্রমে হিন্দু ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর মেলবন্ধনে এখানে গড়ে উঠেছে এক অনন্য সামাজিক সম্প্রীতি। অন্যদিকে সিলেট, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোণার নদীমাতৃক সীমান্তে অবস্থানের কারণে এখানকার কথ্য ভাষায় ফুটে উঠেছে এক বিশেষ আঞ্চলিক স্বকীয়তা।
ওয়াজ-কীর্তন, বাউল গান, ধামাইল, যাত্রাপালা, নৌকা বাইচ, ফুটবল খেলা কিংবা গ্রামীণ মেলার আনন্দেই লুকিয়ে আছে শাল্লার মূল প্রাণস্পন্দন। এখানকার মানুষের জীবন ও জীবিকা আবর্তিত হয় হাওর, বোরো ধান এবং বিলের মাছকে কেন্দ্র করে। বৈশাখে সোনালী ধানের হাসি আর বর্ষায় উত্তাল 'আফাল'-এর সাথে সমানে লড়াই করে টিকে থাকাই এই হাওরবাসীর মূল জীবনসংগ্রাম।
তবে প্রাচুর্যময় ইতিহাস ও সংস্কৃতির ভিড়ে আজও অবহেলিত শাল্লার অবকাঠামো। বিশেষ করে শিক্ষা, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ এবং সর্বোপরি যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে এই অঞ্চলের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
বর্তমানে নির্মাণাধীন আজমিরীগঞ্জের জলসুখা–শাল্লা–দিরাই–মর্দনপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে শাল্লা থেকে ঢাকা, সুনামগঞ্জ ও সিলেটের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটবে। একটি সুসংহত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাই পারে হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করে তাদের শেকড়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে এক টেকসই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে।