হাওরাঞ্চলের রূপ ও জীবনগাথা: জল-মাটির শাল্লা

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৫৭ (সোমবার)
হাওরাঞ্চলের রূপ ও জীবনগাথা: জল-মাটির শাল্লা

 

​হাবিবুর রহমান হাবিব, শাল্লা (সুনামগঞ্জ) থেকে:বর্ষায় থৈ থৈ জলরাশি আর হেমন্তে বিস্তৃত সবুজের সমারোহ—ভাটি বাংলার এক প্রাণবন্ত জনপদ সুনামগঞ্জের শাল্লা। কালনী, কুশিয়ারা, সুরমা ও দাঁড়াইন নদীর পলিঘেঁষে গড়ে উঠেছে এই ভূখণ্ড। যদিও শাল্লা নামকরণের সর্বজনগ্রাহ্য কোনো একক ইতিহাস পাওয়া যায় না, তবুও এখানকার লোককথা, প্রাচীন ঐতিহ্য ও আবহমান সংস্কৃতির সুবাস ছড়িয়ে রয়েছে চারদিকে।

​প্রাচীন গৌড় রাজ্যের শাসনকাল থেকে শুরু করে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর সিলেট বিজয়ের পর পর্যায়ক্রমে হিন্দু ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর মেলবন্ধনে এখানে গড়ে উঠেছে এক অনন্য সামাজিক সম্প্রীতি। অন্যদিকে সিলেট, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোণার নদীমাতৃক সীমান্তে অবস্থানের কারণে এখানকার কথ্য ভাষায় ফুটে উঠেছে এক বিশেষ আঞ্চলিক স্বকীয়তা।

​ওয়াজ-কীর্তন, বাউল গান, ধামাইল, যাত্রাপালা, নৌকা বাইচ, ফুটবল খেলা কিংবা গ্রামীণ মেলার আনন্দেই লুকিয়ে আছে শাল্লার মূল প্রাণস্পন্দন। এখানকার মানুষের জীবন ও জীবিকা আবর্তিত হয় হাওর, বোরো ধান এবং বিলের মাছকে কেন্দ্র করে। বৈশাখে সোনালী ধানের হাসি আর বর্ষায় উত্তাল 'আফাল'-এর সাথে সমানে লড়াই করে টিকে থাকাই এই হাওরবাসীর মূল জীবনসংগ্রাম।

​তবে প্রাচুর্যময় ইতিহাস ও সংস্কৃতির ভিড়ে আজও অবহেলিত শাল্লার অবকাঠামো। বিশেষ করে শিক্ষা, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ এবং সর্বোপরি যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে এই অঞ্চলের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

​বর্তমানে নির্মাণাধীন আজমিরীগঞ্জের জলসুখা–শাল্লা–দিরাই–মর্দনপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হলে শাল্লা থেকে ঢাকা, সুনামগঞ্জ ও সিলেটের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটবে। একটি সুসংহত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাই পারে হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করে তাদের শেকড়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে এক টেকসই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে।

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোতাহার হোসেন

মোবাইল: ০১৩৩২-৮৪৫৬৯৯

তথ্য ও প্রযুক্তি সহযোগী - আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.