https://www.voiceofpeople24.com/
4373
opinion
লিখেছেন: মাহমুদ মূসা সাঈদ
প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ০১:৩৯
বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে এক ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের। গত কয়েকদিন ট্রেন স্টেশন, লঞ্চঘাট এমনকি বিমানবন্দরে মানুষের সরব উপস্থিতি যেন জানিয়ে দিচ্ছে—জাতি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী উৎসবের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে প্রস্তুত।
তবে এই অর্জন একদিনে আসেনি। জুলাইয়ের আন্দোলনে ১৪০০-এরও বেশি মানুষের আত্মদান এবং গত এক যুগে হাজারো কর্মী-সমর্থকের ত্যাগ-তিতিক্ষা আজকের এই মুহূর্তকে সম্ভব করেছে। তাদের রক্ত, অশ্রু আর দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়েই জাতি আজ একটি নতুন প্রত্যাশার সামনে দাঁড়িয়ে।
বিভিন্ন জরিপ ও তথ্য-উপাত্ত বলছে, এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত—এই দুই দল প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে এ দুই দলের অগণিত নেতাকর্মী যে নির্যাতন, নিপীড়ন ও বাধার সম্মুখীন হয়েছেন, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সেই কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা তাদের রাজনীতিকে আরও পরিণত ও দৃঢ় করেছে।
জুলাই আন্দোলনের সময় লাখো মানুষ যখন রাজপথে নেমে এসেছিল, তখন সেটি ছিল এক প্রত্যাশিত গণজাগরণ। সেই আন্দোলনে বর্তমান নির্বাচনের প্রধান দুই দলের ভূমিকাও ছিল সহযোদ্ধার মতো, সহযোগীর মতো। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সেই আকাঙ্ক্ষা আজ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে।
গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এখানেই—মত থাকবে, দ্বিমত থাকবে; কেউ জয়ী হবে, কেউ পরাজিত হবে। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয় মিলবে আচরণে। আমরা প্রত্যাশা করি, বিজয়ী ও বিজিত উভয় পক্ষই একে অপরের হাত ধরে বলবে—“চলুন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমরা একসঙ্গে পথ চলি।”
নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়; এটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি মোড়। যদি রাজনৈতিক দলগুলো সহনশীলতা প্রদর্শন না করে, যদি নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সবাই আন্তরিক সহযোগিতা না করে, তবে গণতন্ত্রের এই অগ্রযাত্রা ব্যাহত হতে পারে। তখন পথ হারাবে বাংলাদেশ—আর তার খেসারত দেবে সাধারণ মানুষ।
দেশের কোটি মানুষের আজ একটাই শেষ প্রত্যাশা—নির্বাচনের পর যেন পথ না হারায় বাংলাদেশ।