https://www.voiceofpeople24.com/

5100

exclusive

ডা: এস.এম.আসাদুজ্জামান জুয়েল

মাদক-নেশা পরিবার ও জাতির শত্রু 

প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:১২


মানুষের মধ্যে যেমন সু ও কু- প্রবৃত্তি অর্থাৎ ভালো ও মন্দ রিপু বা দিক রয়েছে; নেশাগ্রস্ততার দিকে বা ক্ষেত্রেও রয়েছে ভালো নেশা এবং বদ নেশা। সমাজ, পরিবারে প্রচলিত বক্তব্যে বলা হয় ছেলে বা মেয়েটির পড়ালেখার খুব নেশা, লোকটির ব্যবসার নেশা, ব্যবসায় বাড়ানোর নেশা, খেলার নেশা, মাছ শিকারের নেশা, বড়ি (বড়শী) বাওয়ার নেশা, ভ্রমণের নেশা ইত্যাদি। আলোচিত এসবই ইতিবাচক নেশা যেগুলো সমাজকে ও নিজেকে করে সমৃদ্ধ ও ধন্য। বিপরীতে ধূমপানের নেশা, মদ্য পানের নেশা, মাদকদ্রব্য সেবনের নেশাগুলো ক্রমান্বয়ে খারাপ থেকে খারাপতর অভিধায়সিক্ত। নানা শ্লোগান, ব্যানার, ফেস্টুনসহ অনেক মিডিয়াতেও অধিক ও নিয়মিত প্রচারিত ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, ধূমপানে ক্যান্সার হয়। ধূমপান মানে বিষপান ইত্যাদি। অপরদিকে, মাদকদ্রব্য সেবনে ব্যক্তিকে যেমন ধ্বংস করে, পরিবারকে হেয় ও নিঃস্ব করে আইনশৃঙ্খলাকে করে পর্যুদস্ত এবং সমাজকে করে উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত। মাদকের নেশায় বুঁদ বা মগ্ন ব্যক্তিবর্গ স্বীয় পরিবার, অনাত্মীয়, অপরিচিত, পরিচিত কাউকেই তোয়াক্কা না করে নেশার ঘোরে নানা ধরনের অপরাধ ঘটাচ্ছে। সন্তান, পিতা-মাতা-স্ত্রীসহ নানাজনকে হত্যাসহ চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি, ধর্ষণ, মব-সন্ত্রাস সহ নানা  ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপে তারা ব্যস্ত হয়ে পড়ছে। এদের দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিয়তই হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যও এই মাদকসেবীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়ে হতাহত হচ্ছেন। ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে ভারত-মিয়ানমার থেকে প্রায় দু’শতাধিক স্পট দিয়ে নানা ধরনের মাদক প্রবেশ করে দেশ সয়লাব হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বার্ষিক ড্রাগ রিপোর্ট অব বাংলাদেশ ২০২৫ইং অনুযায়ী উদ্ধারকৃত মাদকগুলোর মধ্যে রয়েছে-ইয়াবা বা এটিএম ট্যাবলেট ৪,৩৫, ৬২,৮১১টি, গাঁজা-৯৬,৩৫৭.৫৮ কেজি; হেরোইন-প্রায় ৩৩৬.৭ কেজি; ফেনসিডিল-৩,১৯,৯৪০ বোতল; বুপ্রেনরফিল-১,৩৪,৪৬৮ অ্যাম্পুল এবং কোকেন ১৪,৬৫১ কেজি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ভাষ্য মতে, ইয়াবা এবং অ্যামেকটামিন জাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার ২০২৫ সালের বড় আকারে বৃদ্ধি পেলেও গাঁজা, হেরোইন, ফেন্সিডিল ও কোকেন উদ্ধার কমেছে। 
এদিকে জানা যায়, অতীতে বিশে^ মাদকদ্রব্য উৎপাদক ও সারা বিশে^ তা রপ্তানি ও চোরাই পথে পাচারের দেশ হিসেবে বহুল পরিচিত দেশ হচ্ছে-কলম্বিয়া। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার শীর্ষ মাদক স¤্রাট ছিল-পাবলো এসকোবার। তবে বর্তমানের প্রেক্ষাপটে বিশে^র নানাদেশে নানাভাবে মাদকদ্রব্য উৎপাদন, তৈরি এবং তা নানা রুটে পাচার হয়ে বাংলাদেশের অলি-গলি, বস্তি, হোটেল-মোটেল, সড়ক, নির্মাণাধীন ভবনসহ অনেক অভিজাত এলাকাতেও তা বিক্রি হচ্ছে এবং হাত বদল হচ্ছে। অবশ্য কিছু কিছু  ক্ষেত্রে  বাংলাদেশ হয়ে অন্যদেশেও চলে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট অনেকের তথ্যে উঠে এসেছে। সে যাহোক, এই মাদকসেবন শুধু ক্ষতিকারকই নয় বরং মস্তিষ্কের সম্মুখভাগকে তথা ঋৎড়হঃধষ খড়নব কে আক্রান্ত করে অমৎবংংরাবহবংং অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকান্ড, অত্যাচার, অসামাজিক কর্মকান্ড ঘটাতে বাধ্য করে। তাই মাদকসেবী তথা মাদকদ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখতে সামাজিক আন্দোলন সর্বস্তরে গড়ে তোলা জরুরি, আইনশৃঙ্খলার উন্নতির জন্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর কঠোর নজরদারী দরকার, দরকার মাদকসেবনে অসুস্থদের সঠিক চিকিৎসারও। এজন্য সরকার, বিরোধীদলসহ সমাজের সুশীল সমাজ ও সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। কেননা মাদক-নেশা, মাদক-পেশা, পরিবার ও জাতির শত্রু। এক্ষেত্রে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই অধিক কাম্য। 

লেখক: চিকিৎসক ও সাংবাদিক