https://www.voiceofpeople24.com/

4964

sylhet

রায়নগরে তিন খুন: বিচার দাবিতে মানববন্ধন, প্রশাসনকে ৩ দিনের সময়সীমা

প্রকাশিত : ২৮ আগস্ট ২০২৬ ২০:১১

সিলেট নগরীর রায়নগরে তিনজনকে হত্যার ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন নিহত দম্পতির স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে তিন দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

শুক্রবার দুপুরে মহানগরীর শাহী ঈদগাহ প্রাঙ্গণে বৃহত্তর শাহী ঈদগাহবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত দম্পতির কন্যা তাহমিনা সাত্তার এনি ও সেলিনা সুলতানা শিখাসহ পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে নিহতদের মেয়েরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাঁদের মা-বাবার হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তাঁরা বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কারণের কথা বলা হয়েছে। কখনো প্রেমের সম্পর্ক, পরে খারাপ ব্যবহার এবং সর্বশেষ চুরি বা বাসাভাড়ার টাকা জোগাড়ের বিষয়টি হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে সামনে এসেছে।

তাঁদের অভিযোগ, একেক সময় একেক ধরনের বক্তব্য আসায় হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিয়ে পরিবারের মধ্যে গভীর সংশয় তৈরি হয়েছে। তাই নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানি বা সাজা দেওয়ার পক্ষে তাঁরা নন বলেও জানান বক্তারা।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক হেলাল চৌধুরী। তিনি বলেন, তিনজন মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য আসা হতাশাজনক। প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে গভীর ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি প্রশাসনকে তিন দিনের সময়সীমা দেন।

বক্তারা জানান, আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১২ আগস্ট সকালে সিলেট নগরের রায়নগর এলাকার নিজ বাসা থেকে আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় বাবুল মিয়া নামে এক রংমিস্ত্রিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।