https://www.voiceofpeople24.com/

4952

whole-country

হামদ-নাত ও জিকিরে মুখর চট্টগ্রাম, লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জশনে জুলুস

প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট ২০২৬ ১৫:২৩

হামদ, নাত, তাকবির, দরুদ শরিফ ও জিকিরে ভোর থেকেই মুখর হয়ে ওঠে চট্টগ্রাম নগরী। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে নগরের ষোলশহরে জড়ো হন নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা নানা বয়সী মানুষ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা কয়েক লাখ ছাড়িয়ে যায়।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে নগরের ষোলশহরের জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে জশনে জুলুস বের হয়। এতে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিবছর ১২ রবিউল আউয়াল আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামে এ জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবারের আয়োজন ছিল ৫৬তম।

জুলুসে নেতৃত্ব দেন আওলাদে রাসুল (সা.) সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ (মাজিআ)। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও সৈয়দ মুহাম্মদ আকিন আহমদ শাহ।

আয়োজকরা জানান, ১৯৭৪ সালে আল্লামা সৈয়্যদ মুহাম্মদ তৈয়্যব শাহ (রহ.) চট্টগ্রামে জশনে জুলুসের সূচনা করেন। এরপর থেকে আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় প্রতি বছর এ আয়োজন হয়ে আসছে।

জুলুসে অংশ নিতে ভোর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ষোলশহর জামেয়া মাদ্রাসা মাঠে জড়ো হতে থাকেন। অনেকে হেঁটে, আবার কেউ ট্রাক ও পিকআপে করে সেখানে আসেন। জুলুসকে ঘিরে নগরের বিভিন্ন সড়কের মোড়ে বিশুদ্ধ পানি, শরবত ও শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে প্রায় এক মাস ধরে নগরের বিভিন্ন এলাকায় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজসজ্জা করা হয়।

জুলুস উপলক্ষে নগরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ। পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও বাড়ানো হয়। পুলিশ জানায়, জুলুস চলাকালে যান চলাচলের জন্য বিকল্প সড়ক ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। ছুটির দিন হওয়ায় নগরে যানজটও তুলনামূলক স্বাভাবিক ছিল।

জুলুসটি ষোলশহর থেকে শুরু হয়ে বিবিরহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, জিইসি, ওয়াসা মোড়, লালখান বাজার ও টাইগারপাস হয়ে একই পথে ফিরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পীর আল্লামা সাবির শাহ বলেন, প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনে আনন্দ উদযাপন করা কোরআন ও হাদিস দ্বারা স্বীকৃত। তাঁর ভাষ্য, ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত জশনে জুলুসে কোরআন তেলাওয়াত, নাতে রাসুল (সা.) পাঠ ও সীরাত আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে আনজুমান-এ-রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মনজুর আলম, সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, এডিশনাল সেক্রেটারি আলহাজ শামসুদ্দিন, ফাইন্যান্স সেক্রেটারি মোহাম্মদ কমর উদ্দীন (সবুর), প্রেস অ্যান্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দীন, ক্যাবিনেট মেম্বার পেয়ার মোহাম্মদ, মাহমুদ নেওয়াজ, মহিউদ্দিন খোকনসহ গাউসিয়া কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।