https://www.voiceofpeople24.com/
4931
whole-country
প্রকাশিত : ২৩ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪৩
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে প্রায় ৯৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজারের বেশি ভোট। এবার মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উপনির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দেলাওয়ার হোসেনের নামই এগিয়ে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি।
অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় এগিয়ে রয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন। তিনি মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই। তবে তাঁর মনোনয়ন এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ ছাড়া জেলা বিএনপির দুই সহসভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ ও সুলতানুল ফেরদৌস নম্র চৌধুরীও মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এর মধ্যে মির্জা ফখরুলের মেয়ে এবং অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসাবিজ্ঞানী শামারুহ মির্জাকে নিয়েও প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী বলেন, উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী কে হবেন, সে সিদ্ধান্ত নেবে হাইকমান্ড। এ নিয়ে দলে কোনো বিভাজন নেই। কেন্দ্র যাঁকে মনোনয়ন দেবে, নেতা-কর্মীরা তাঁর পক্ষেই কাজ করবেন। জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিনের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। নির্বাচনে তাঁর দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতারও প্রভাব ছিল। ফলে বিএনপির নতুন প্রার্থীকে গত নির্বাচনে পাওয়া ভোটের বড় একটি অংশ ধরে রাখার সক্ষমতা দেখাতে হবে। এ কারণে প্রার্থী বাছাইকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেনের জন্য বড় সুবিধা হলো, ভোটারদের কাছে তিনি ইতিমধ্যে পরিচিত। সর্বশেষ নির্বাচনে ১ লাখ ৪১ হাজারের বেশি ভোট পাওয়ায় এবার সেই ভোট ধরে রাখার পাশাপাশি বিএনপির নতুন প্রার্থীর সম্ভাব্য দুর্বলতাকে কাজে লাগাতে চাইছে দলটি। উপনির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হলে মাঠের সংগঠন ও কর্মীদের সক্রিয়তা বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি মো. আব্দুল লতিফ বলেন, মির্জা ফয়সল আমিন প্রার্থী হলে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি এবং দল ক্ষমতায় থাকার বিষয়টি তাঁর জন্য সুবিধা তৈরি করবে। মির্জা ফখরুলের দেওয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টিও ভোটারদের বিবেচনায় থাকতে পারে। তবে মির্জা ফখরুল ও তাঁর ভাইয়ের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এক নয়, তাই বিএনপির ভোট কিছুটা কমতে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেলাওয়ার হোসেনেরও উল্লেখযোগ্য ভোট রয়েছে। জামায়াত ক্ষমতায় না থাকলেও দলটির সাংগঠনিক তৎপরতা উপনির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বিএনপির জন্য জয় সহজ হলেও জামায়াত যে আসনটি ছাড় দেবে না, সেটি স্পষ্ট।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দিন প্রধান বলেন, মাঠে তাঁদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। কেন্দ্র থেকে সিদ্ধান্ত জানানো হলে তাঁরা নির্বাচনী কার্যক্রমে নামবেন। তিনি জানান, প্রার্থী হিসেবে দেলাওয়ার হোসেনকেই তাঁরা প্রস্তুত রেখেছেন এবং দলটি উপনির্বাচনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত।