https://www.voiceofpeople24.com/

4930

national

জাতীয়

মন্ত্রিসভায় রদবদল: উৎকণ্ঠা কেটে গিয়ে স্বস্তি

প্রকাশিত : ২৩ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪১

মন্ত্রিসভায় রদবদলের আগে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাঁদের কেউ বাদ না পড়ায় স্বস্তি ফিরেছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। তবে সরকার ও বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, এবারের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে কার্যত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের কাজ ও কর্মদক্ষতা এখন থেকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

শুক্রবারের রদবদলে মন্ত্রিসভায় নতুন করে তিনজন পূর্ণ মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন। বিপরীতে একজন মন্ত্রীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে গুঞ্জন থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ে শেষ পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন আসেনি।

সরকার ও বিএনপির একাধিক সূত্রের দাবি, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ড মূল্যায়নের ভিত্তিতে কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার আলোচনা চলছিল। বিশেষ করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিয়ে ছিল নানা গুঞ্জন। তবে এবারের রদবদলে তাঁদের বহাল রাখা হয়েছে।

তবে সূত্রগুলো বলছে, এর অর্থ এই নয় যে তাঁদের কর্মদক্ষতা নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে কোনো প্রশ্ন নেই। বরং বর্তমান দায়িত্বে তাঁদের কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত উন্নতি না হলে পরবর্তী মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এবারের রদবদলে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে জহির উদ্দিন স্বপনের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর পদ হারানো নিয়ে। মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। অথচ বাদ পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে যেসব নাম আগে আলোচনায় ছিল, তাঁর নাম সেখানে ছিল না। দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং সরকারের নীতি ও কর্মসূচি প্রচারে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাঁর বিষয়ে ইতিবাচক ধারণাও ছিল। ফলে তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে উপদেষ্টা করায় দল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে।

সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্যের ভাষ্য, বড় ধরনের রদবদল না হলেও এবারের পরিবর্তন বিতর্কিত, নিষ্ক্রিয় বা প্রত্যাশিত ফল দিতে ব্যর্থ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য স্পষ্ট সতর্কবার্তা। সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন ইতিমধ্যে শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে পরবর্তী পুনর্গঠনে যাঁরা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেন না, তাঁদের বহাল রাখা কঠিন হতে পারে।

গ্যাস-সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে জনমনে অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নিয়েও পরিবর্তনের গুঞ্জন ছিল। তবে সরকারের সূত্র বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং সরবরাহব্যবস্থার অনিশ্চয়তা বিবেচনায় অভিজ্ঞ নেতৃত্বকেই বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সময়ে নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন হলে সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক ও নীতিগত সমন্বয়ে বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কাও ছিল নীতিনির্ধারকদের মধ্যে।

এ ছাড়া কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দাপ্তরিক কাজে অনিয়মিত থাকা, দায়িত্ব পালনে নিষ্ক্রিয়তা এবং ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় পদ ছাড়ার আগ্রহ প্রকাশের বিষয়টিও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নজরে এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে। রাজনৈতিক ভারসাম্য এবং সংশ্লিষ্টদের নিজেদের প্রমাণের আরও একটি সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাঁদের আপাতত বহাল রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

রদবদলে গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান। এর আগে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন দলের সাবেক মহাসচিব ও বর্তমানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আবদুল মঈন খানকে ঘিরে সরকার ও দলের ভেতরে ইতিবাচক প্রত্যাশা রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

নতুন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আন্দালিভ রহমান পার্থকেও ঘিরে রয়েছে ইতিবাচক আলোচনা। অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবেন বলে আশা করছে সরকার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও এসেছে ব্যতিক্রমী বিন্যাস। একজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি নতুন করে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে হুমায়ুন কবিরকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই মন্ত্রণালয়ে একই পদমর্যাদার দুজন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে শনিবার নবনিযুক্ত স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের কল্যাণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার পরিচালনায় কিছু পরিবর্তন এনেছেন। সেই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় তাঁরা সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।