https://www.voiceofpeople24.com/
4932
economy
প্রকাশিত : ২৩ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪৬
শনিবার দুপুরে এলএনজিবাহী একটি কার্গো মহেশখালী উপকূলে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে পৌঁছায়। পরে কার্গো থেকে এলএনজি সরবরাহ শুরু হয়।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ ছিল ঘণ্টায় ৫৮১ মিলিয়ন ঘনফুট। বিকেল ৪টার দিকে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুটে। একই সময়ে এলএনজিসহ দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২ হাজার ৩০৭ মিলিয়ন ঘনফুট।
দেশে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর বিপরীতে স্বাভাবিক সময়ে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা সম্ভব হয়। তবে গত ২১ জুলাই সাগরে ভাসমান এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে আগুন লাগার পর গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়।
এরপর প্রায় এক মাস ধরে সামিট ও এক্সিলারেট এনার্জির দুটি এফএসআরইউতে একের পর এক সমস্যার কারণে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়। এর প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। গ্যাসের সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গিয়ে একপর্যায়ে সারা দেশে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানির (আরপিজিসিএল) এক কর্মকর্তা জানান, শনিবার বেলা ২টার দিকে এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউর কাছে একটি এলএনজি কার্গো পৌঁছায়। প্রায় সাত ঘণ্টা পর কার্গো থেকে এলএনজি আনলোডের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা।
এদিকে গ্যাসের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নতুন করে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ার খবরে উৎপাদন চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিল্প মালিকেরা। তবে যেসব এলাকায় এখনো গ্যাসের চাপ বা সরবরাহ নেই, সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস।
তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহ নেওয়াজ পারভেজ বলেন, প্রথমে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা অঞ্চলের চাহিদা পূরণ করা হবে। এরপর ঢাকাসহ তিতাসের আওতাধীন অন্যান্য এলাকায় গ্যাস পৌঁছাবে। এ কারণে পুরো বিতরণব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বিভিন্ন পাইপলাইনে শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ফলে নতুন করে গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও স্বাভাবিক চাপ ফিরে পেতে কিছুটা সময় লাগবে।
তিতাসের এই কর্মকর্তা আরও জানান, গরমের সময় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য অতিরিক্ত গ্যাস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। সেই বরাদ্দ বহাল রেখে লাইনে অতিরিক্ত যে গ্যাস পাওয়া যাবে, তা রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানায় সরবরাহ বাড়াতে ব্যবহার করা হবে।