https://www.voiceofpeople24.com/

4953

politics

এনসিপি কার্যালয়ে জামায়াত আমির, ‘হাতে হাত মিলিয়ে সবাই আছি’

প্রকাশিত : ২৬ আগস্ট ২০২৬ ১৫:২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দলটির নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে রুপায়ন ট্রেড সেন্টারে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান তিনি।

কার্যালয়ে পৌঁছালে এনসিপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতারা জামায়াত আমিরকে স্বাগত জানান। এ সময় এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম শফিকুর রহমানের হাতে ফুলের তোড়া, দলের প্রতীক শাপলা কলির রেপ্লিকা, পাঞ্জাবি ও বোরখার কাপড় উপহার হিসেবে তুলে দেন।

সাক্ষাৎ শেষে শফিকুর রহমান বলেন, এনসিপির কার্যালয়ে তাঁর সফরকে নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের বার্তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এর মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বার্তাটা হচ্ছে যে, আমরা হাতে হাত মিলিয়ে সবাই আছি।’

মতবিনিময়ের আগে সাংবাদিকদের শফিকুর রহমান জানান, অনেক দিন ধরেই তিনি এনসিপির কার্যালয় দেখতে চাচ্ছিলেন। সেই আগ্রহ থেকেই তাঁর সেখানে যাওয়া।

জামায়াত আমির বলেন, সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিগত নির্বাচনে তাঁরা একসঙ্গে লড়াই করেছেন। তাঁর মতে, সহযোদ্ধাদের পরস্পরের পাশে থাকা এবং সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে একসঙ্গে চলার মধ্যেই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য নিহিত।

সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তাঁদের যথেষ্ট ‘রিজার্ভেশন’ থাকলেও দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের বৃহত্তর স্বার্থে তাঁরা ফলাফল মেনে নিয়েছেন।

তিনি বলেন, সংসদের ভেতরে তাঁরা গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছেন। তবে বিরোধী দল হিসেবে তাঁদের যে অধিকার ও সুযোগ পাওয়ার কথা, তার বড় একটি অংশ থেকে তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংসদে উন্নয়ন বরাদ্দ নিয়েও অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের যে পরিমাণ উন্নয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, বিরোধী দলের সদস্যরা তার কাছাকাছিও বরাদ্দ পাননি বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন বৈষম্য এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যদের উন্নয়ন বরাদ্দ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ১১ দলীয় জোট ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের মৌলিক দাবিগুলো আদায়ে আন্দোলন করছে।

১১ দলীয় জোট থেকে কোনো দল বেরিয়ে গেলে এনসিপিও জোট ছাড়তে পারে—এমন আলোচনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এনসিপি বা জামায়াতের এমন কোনো এজেন্ডা নেই। তাঁদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক জোট হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনে তাঁরা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন এবং বর্তমানে জনগণের স্বার্থে একসঙ্গে আন্দোলন করছেন।

ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, এ নিয়ে তাঁরা ‘হোমওয়ার্ক’ শুরু করেছেন। জোটের শরিক দলগুলোর সম্ভাবনাময় নেতাদের পাশাপাশি দেশের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদেরও এতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, তাঁরা সংসদের ভেতরে ও বাইরে ঐক্যবদ্ধভাবে আছেন। দেশের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, সারের মূল্যবৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়গুলো নিয়ে সংসদ ও রাজপথে কথা বলার ঘোষণা দেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘১১ দল না, আমাদের এই আন্দোলন জনগণের পক্ষের আন্দোলন, এটা নতুন বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন।’

নির্বাচনে তাঁদের সঙ্গে বিভিন্ন কারণে যুক্ত হতে না পারা রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিগুলোকেও জনগণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জামায়াত আমিরের সফরকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হলেও এর মধ্য দিয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চলমান লড়াইয়ে শফিকুর রহমানের নেতৃত্ব বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আগামী সংসদ অধিবেশনে জনগণের পক্ষে তাঁদের কণ্ঠ আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে এবং সংসদের বাইরেও রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান এনসিপির আহ্বায়ক।

এ সময় এনসিপির কার্যালয়ে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য জাহিদুর রহমানসহ দলটির কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।