https://www.voiceofpeople24.com/

4733

national

জাতীয়

গ্যাস-সংকটে বিপর্যস্ত সিএনজি চালকরা, যাত্রীদের ওপর বাড়তি ভাড়ার চাপ

প্রকাশিত : ২৮ জুলাই ২০২৬ ০৯:৫৮

দেশজুড়ে চলমান তীব্র গ্যাস-সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকদের ওপর। ফিলিং স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস সংগ্রহ করতে হওয়ায় তাঁদের দৈনিক ট্রিপ ও আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে অনেক চালক সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। একই সঙ্গে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও বাড়ছে।

সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটিতে অগ্নিকাণ্ডের পর গত মঙ্গলবার থেকে দেশের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। ফলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রান্নার গ্যাস, সিএনজি সরবরাহ, শিল্প উৎপাদন এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। লোডশেডিংও বেড়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল করতে আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আশা প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী সপ্তাহে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হবে এবং ধাপে ধাপে তা স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হবে।

গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। রাজধানীতে অনুমোদিত প্রায় ১৫ হাজার ৬৯৬টি সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকদের অনেকেই ৬ থেকে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস সংগ্রহ করছেন। এতে প্রতিদিনের আয়ের বড় অংশই নষ্ট হচ্ছে।

অটোরিকশাচালকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আগের মতো ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অনেক চালক মালিকের জমা দেওয়ার পর নিজের জন্য কোনো আয়ই রাখতে পারছেন না।

অন্যদিকে যাত্রীরা অভিযোগ করছেন, অটোরিকশার সংকটকে কেন্দ্র করে অনেক চালক আগের তুলনায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া দাবি করছেন। চালকদের ভাষ্য, গ্যাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা এবং আয় কমে যাওয়ার ক্ষতি পোষাতেই অতিরিক্ত ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। উদাহরণ হিসেবে রামপুরা থেকে কল্যাণপুর রুটে আগে যেখানে ভাড়া ছিল ৩০০–৩৫০ টাকা, সেখানে এখন ৪০০–৫০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে।

ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি, ২০১৫ সালের পর একাধিকবার সিএনজির দাম বাড়লেও অটোরিকশার ভাড়া সে অনুযায়ী সমন্বয় হয়নি। ফলে বর্তমান সংকটে চালকদের আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।

তবে গ্যাস-সংকটের প্রভাব বাস চলাচলে তুলনামূলক কম। কারণ রাজধানীর অধিকাংশ বাসই ডিজেলচালিত। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির তথ্যমতে, ঢাকার মোট বাসের মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশের মতো সিএনজিচালিত হওয়ায় গণপরিবহনে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়নি।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে সরকারের নজরদারি ও অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এমন সংকট মোকাবিলায় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানিনির্ভর গণপরিবহন সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।