https://www.voiceofpeople24.com/
4411
whole-country
খুলনা
প্রকাশিত : ০৩ জুন ২০২৬ ১৬:৫৯
খানজাহান আলী মাজার সংলগ্ন দিঘি থেকে সরিয়ে কুমিরটিকে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রা.) মাজারসংলগ্ন দিঘি থেকে উদ্ধার করা কুমিরটিকে খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল কুমিরটিকে সেখানে নিয়ে যায়।
খুলনা বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল জানান, কুমিরটিকে পর্যবেক্ষণের জন্য দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে কেন্দ্রে আনা হয়েছে। বন অধিদপ্তর, বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্র এবং করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় কুমিরটিকে উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, আগামী ৪ থেকে ৭ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর কুমিরটির স্থায়ী আবাস ও ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
কুমিরটি গ্রহণের সময় খুলনার বন সংরক্ষক ইমরান খান, বন বিভাগের কর্মকর্তারা এবং বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ উদ্ধারকারী দল সফলভাবে কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনায় পাঠিয়েছে। সেখানে প্রাণীটির আচরণ, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন করা হবে।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের জরুরি বৈঠকে মাজারসংলগ্ন দিঘি থেকে কুমিরটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক জানান, সাম্প্রতিক মর্মান্তিক ঘটনার পর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কুমিরটিকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে মাজারসংলগ্ন দিঘিতে গোসল করতে নেমে ৭ বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কুমিরটি শিশুটিকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। পরদিন ভোরে দিঘির মহিলা ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।