https://www.voiceofpeople24.com/

4408

whole-country

বাগেরহাট

মাজার দিঘিতে আর নেই কুমির, সরিয়ে নিল বন বিভাগ

প্রকাশিত : ০৩ জুন ২০২৬ ১৬:০১

বাগেরহাটে হজরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন ঐতিহাসিক দিঘিতে থাকা একমাত্র নারী কুমিরটিকে অবশেষে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে বন বিভাগের কুমির বিশেষজ্ঞরা স্থানীয়দের সহায়তায় কুমিরটিকে উদ্ধার করে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে স্থানান্তর করেন।

সকাল থেকেই বন বিভাগ, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাজার এলাকায় অবস্থান নেন। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে দিঘির পূর্ব পাড়ে কুমিরটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে সেটিকে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। উদ্ধার শেষে কুমিরটির হাত-পা ও চোখ বেঁধে বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বন বিভাগের গাড়িতে করে খুলনায় পাঠানো হয়।

কুমির উদ্ধারের সময় মাজার এলাকায় কয়েক হাজার মানুষ ভিড় করেন। অনেকে ঐতিহ্যবাহী এই কুমিরটিকে শেষবারের মতো দেখার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তার কারণে পুলিশ দর্শনার্থীদের নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করতে নির্দেশ দেয়।

তিন দিন আগে কুমিরটির আক্রমণে ফাতেমা আক্তার নামে এক শিশুর মৃত্যু হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসনের জরুরি সভায় জননিরাপত্তার স্বার্থে কুমিরটিকে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কুমির অপসারণের পর স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিন মাজারের প্রধান ঘাটে দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের স্বাভাবিকভাবে গোসল করতেও দেখা যায়।

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন বলেন, জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আপাতত প্রাণীটিকে খুলনার বন্য প্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় সাড়ে ছয়শ বছর আগে সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে মাজারের সামনে দিঘিটি খনন করা হয়। লোককথা অনুযায়ী, পানির নিরাপত্তার জন্য সেখানে কুমির অবমুক্ত করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে ‘কালা পাহাড়’ ও ‘ধলা পাহাড়’ নামে পরিচিত কুমিরগুলো মাজারের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে ওঠে।

তবে প্রজনন ব্যাহত হওয়া, অসুস্থতা ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় কুমিরের সংখ্যা কমতে থাকে। ২০০৫ সালে ভারত থেকে নতুন কিছু কুমির আনা হলেও বেশ কয়েকটি মারা যায়। সর্বশেষ দুটি কুমিরের মধ্যে একটি ২০২৩ সালের অক্টোবরে মারা যাওয়ার পর দিঘিতে একমাত্র এই নারী কুমিরটিই ছিল।

স্থানীয় খাদেমদের দাবি, অতীতে মাজারের কুমিরগুলো তেমন আক্রমণাত্মক ছিল না। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক আক্রমণের ঘটনা ঘটে। ফাতেমা আক্তারের মৃত্যুর আগে ২০২৪ সালে এক বৃদ্ধ এবং ২০২০ সালে এক কিশোর কুমিরের হামলার শিকার হন। চলতি বছরের এপ্রিলেও কুমিরের আক্রমণে একটি কুকুর মারা যাওয়ার ঘটনা আলোচনায় আসে।