https://www.voiceofpeople24.com/

5026

entertainment

শতবর্ষে মহানায়ক উত্তমকুমার

প্রকাশিত : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩৮

সদা হাস্যোজ্জ্বল মুখ, অনন্য অভিনয় আর পর্দায় এক আলাদা উপস্থিতি—উত্তমকুমার নামটি উচ্চারণ করলেই বাঙালির চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক কিংবদন্তির অবয়ব। পঞ্চাশের দশক থেকে আজও দুই বাংলার দর্শকের হৃদয়ে সমানভাবে বেঁচে আছেন বাংলা চলচ্চিত্রের সেই ‘মহানায়ক’।

 ৩ সেপ্টেম্বর কিংবদন্তি অভিনেতা উত্তমকুমারের ১০০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯২৬ সালের এই দিনে কলকাতার ভবানীপুরে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর আসল নাম ছিল অরুণ কুমার চট্টোপাধ্যায়। চলচ্চিত্রে এসে ‘উত্তমকুমার’ নামেই পরিচিতি পান তিনি।

শিক্ষাজীবন শেষ করার আগেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে কলকাতা পোর্টে কেরানির চাকরি শুরু করেন উত্তমকুমার। তবে অভিনয়ের প্রতি তাঁর আগ্রহ কখনো হারিয়ে যায়নি। সেই আগ্রহই একসময় তাঁকে নিয়ে আসে রুপালি পর্দায়।

উত্তমকুমারের চলচ্চিত্রযাত্রার শুরু ‘মায়াডোর’ ছবির মাধ্যমে। তবে ছবিটি শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়নি। পরবর্তীতে ‘দৃষ্টিদান’ তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র হলেও সেটিও তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। ‘বসু পরিবার’ দিয়ে ধীরে ধীরে দর্শকের নজরে আসেন তিনি।

১৯৫৩ সালে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে বদলে যায় উত্তমকুমারের ক্যারিয়ারের গতিপথ। ছবিটির ব্যাপক সাফল্যের পর বাংলা চলচ্চিত্রে শুরু হয় ‘উত্তম যুগ’। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি হয়ে ওঠেন বাঙালির সবচেয়ে প্রিয় নায়ক।

‘হারানো সুর’, ‘পথে হল দেরী’, ‘সপ্তপদী’, ‘চাওয়া পাওয়া’, ‘বিপাশা’, ‘জীবন তৃষ্ণা’ ও ‘সাগরিকা’র মতো কালজয়ী সিনেমায় তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে।

সুচিত্রা-উত্তম: বাংলা সিনেমার অমর জুটি

উত্তমকুমারের সঙ্গে সুচিত্রা সেনের জুটি বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটিগুলোর একটি। তাঁদের পর্দার রসায়ন দর্শকের কাছে এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, এই জুটি বাংলা সিনেমায় এক নতুন অধ্যায়ের জন্ম দেয়।

সুচিত্রা সেন ছাড়াও সুপ্রিয়া দেবী, তনুজাসহ একাধিক জনপ্রিয় অভিনেত্রীর সঙ্গে অভিনয় করেছেন উত্তমকুমার। তবে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে তাঁর জুটিই সবচেয়ে বেশি সাফল্য পেয়েছিল। এই জুটির অভিনীত ৩০টি সিনেমার মধ্যে ২৯টিই ব্যবসায়িকভাবে সফল হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়।

বাংলা ছাড়িয়ে হিন্দি সিনেমাতেও

শুধু বাংলা চলচ্চিত্রেই নয়, হিন্দি সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন উত্তমকুমার। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য হিন্দি চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘ছোটিসি মুলাকাত’, ‘অমানুষ’ ও ‘আনন্দ আশ্রম’।

অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও অর্জন করেন তিনি। ১৯৬৭ সালে ‘অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি’ ও ‘চিড়িয়াখানা’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হন এই মহানায়ক।

১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই মাত্র ৫৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন উত্তমকুমার। তাঁর চলে যাওয়ার চার দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বাঙালির সাংস্কৃতিক স্মৃতিতে তাঁর অবস্থান আজও অমলিন।

পর্দার সেই হাস্যোজ্জ্বল মুখ, সংলাপ বলার অনন্য ভঙ্গি এবং অভিনয়ের নিজস্ব ঢং তাঁকে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অমর করে রেখেছে। বাংলা সিনেমার সঙ্গে যতদিন বাঙালির আবেগ জড়িয়ে থাকবে, ততদিন মহানায়ক উত্তমকুমারও বেঁচে থাকবেন দর্শকের হৃদয়ে।