https://www.voiceofpeople24.com/
5024
sylhet
সিলেট
প্রকাশিত : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:২৮
দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোকে দালালমুক্ত করার পাশাপাশি সিলেটে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে একাধিক নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা সিলেটের ২৫০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতালটি আগামী তিন মাসের মধ্যে চালুর লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে।
শুক্রবার সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সঙ্গে জড়িত দালালদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। র্যাব, ডিজিএফআই, এসবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত দল এ বিষয়ে কাজ করছে।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, চিকিৎসাসেবার মান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। অবৈধ ক্লিনিক, অনুমোদনহীন লেবার রুম ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে জেলা পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত এক মাসে দেশের ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন তিনি। অধিকাংশ হাসপাতালেই চিকিৎসকদের উপস্থিতি সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। তবে দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, তথ্যের ঘাটতি ও বয়সজনিত কারণে কিছু শিশু হামের টিকা থেকে বাদ পড়েছিল। তাদের টিকার আওতায় আনতে ‘মপ-আপ’ ক্যাম্পেইন চলছে। চলতি মাসের শেষ দিকে বড় পরিসরে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। সিলেটের হাওর ও দুর্গম এলাকাগুলোতে এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ড্রেনেজসহ অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো সাত দিনের মধ্যে চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
২৫০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতালের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যেই হাসপাতালটি চালুর উপযোগী হবে।
সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, প্রকল্প পরিচালক ও পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর দ্রুত জনবল নিয়োগ শুরু করা হবে।
স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট মোকাবিলায় আগামী তিন মাসের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ চিকিৎসক ও ৫ হাজার নার্স নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হাসপাতালগুলোতে পুলিশ ক্যাম্প বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন করে আনসার ক্যাম্প স্থাপনের কথাও জানান তিনি। চিকিৎসক ও রোগী একে অপরের প্রতিপক্ষ নন উল্লেখ করে উভয় পক্ষের সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।
সিলেটে একটি পৃথক শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে তিনটি বড় প্রকল্পকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হলো ২৫০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু, বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং ৪৫০ শয্যার অসম্পূর্ণ ক্যান্সার ইনস্টিটিউট দ্রুত প্রস্তুত করা।
এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সিলেট অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পরিদর্শনের সময় সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির, সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনের শুরুতে দুই মন্ত্রী শহীদ শামসুদ্দীন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর নেন।